লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের হারে টুখেলের কৌশলে সমালোচনায় ট্রাম্প

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের পরাজয় এবং দলটির কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত পারফর্ম করা হ্যারি কেইনকে সেমিফাইনালের দ্বিতীয়ার্থে রক্ষণভাগে নামানোর টুখেলের সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

একটি অনুষ্ঠানে হাস্যরসাত্মক সুরে হোয়াইট হাউসের এই শীর্ষকর্তা বলেন, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়, যার সঙ্গে তার গলফ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, তারা তাকে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বানিয়ে বড় ভুল করেছে। তার মতে, দল লিড নেওয়ার পর সেরা খেলোয়াড়কে ডিফেন্সে পাঠানো ঠিক হয়নি এবং ইংল্যান্ডের আরেকটু আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত ছিল। যদিও ইংলিশ কোচ টুখেল সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বেশ হালকাভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই ফুটবল-জ্ঞানের চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার গভীর সখ্য এবং মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড মওকুফ প্রসঙ্গে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়া বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অবিশ্বাস্যভাবে ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে ফিফা। ট্রাম্প টাওয়ারে ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে ট্রাম্প অকপটে স্বীকার করেন সেই লবিংয়ের কথা। তিনি জানান, জিয়ান্নিকে ফোন করে তিনি ছেলেটাকে খেলায় ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের এই পিঠ-চাপড়ানি ক্রীড়াঙ্গনে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মাঠের বাইরে ভিসা জটিলতা, অতিরিক্ত টিকিটের মূল্য এবং অতিনির্ভর বাণিজ্যিকীকরণের কারণে ইনফান্তিনো আগে থেকেই কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন। তবে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং দাবি করেন, আমেরিকায় তারা পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সমালোচকদের মতে, টুর্নামেন্ট থেকে রেকর্ড ৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাসের কারণেই ইনফান্তিনো এত নিশ্চিন্ত। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং ফুটবল কূটনীতি ও কর্পোরেট ক্ষমতার এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, চালক নিহত

আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের হারে টুখেলের কৌশলে সমালোচনায় ট্রাম্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের পরাজয় এবং দলটির কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত পারফর্ম করা হ্যারি কেইনকে সেমিফাইনালের দ্বিতীয়ার্থে রক্ষণভাগে নামানোর টুখেলের সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

একটি অনুষ্ঠানে হাস্যরসাত্মক সুরে হোয়াইট হাউসের এই শীর্ষকর্তা বলেন, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়, যার সঙ্গে তার গলফ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, তারা তাকে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বানিয়ে বড় ভুল করেছে। তার মতে, দল লিড নেওয়ার পর সেরা খেলোয়াড়কে ডিফেন্সে পাঠানো ঠিক হয়নি এবং ইংল্যান্ডের আরেকটু আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত ছিল। যদিও ইংলিশ কোচ টুখেল সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বেশ হালকাভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই ফুটবল-জ্ঞানের চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার গভীর সখ্য এবং মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড মওকুফ প্রসঙ্গে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়া বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অবিশ্বাস্যভাবে ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে ফিফা। ট্রাম্প টাওয়ারে ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে ট্রাম্প অকপটে স্বীকার করেন সেই লবিংয়ের কথা। তিনি জানান, জিয়ান্নিকে ফোন করে তিনি ছেলেটাকে খেলায় ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের এই পিঠ-চাপড়ানি ক্রীড়াঙ্গনে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মাঠের বাইরে ভিসা জটিলতা, অতিরিক্ত টিকিটের মূল্য এবং অতিনির্ভর বাণিজ্যিকীকরণের কারণে ইনফান্তিনো আগে থেকেই কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন। তবে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং দাবি করেন, আমেরিকায় তারা পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সমালোচকদের মতে, টুর্নামেন্ট থেকে রেকর্ড ৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাসের কারণেই ইনফান্তিনো এত নিশ্চিন্ত। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং ফুটবল কূটনীতি ও কর্পোরেট ক্ষমতার এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে।