লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব ইঞ্জিনে আকাশ জয়ের পথে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প

তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও আকাশযান খাতে ব্যবহারের জন্য দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন এখন প্রস্তুত হচ্ছে। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) ইঞ্জিন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টিইআই তাদের উদ্ভাবিত টিইআই-টিএস১৪০০ ইঞ্জিন গোকবেই হেলিকপ্টারে এবং টিইআই-টিএফ৬০০০ ইঞ্জিন বায়কারের কিজিলেলমা মানববিহীন আকাশযানে ব্যবহারের জন্য সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

টিইআইয়ের মহাব্যবস্থাপক মাহমুত ফারুক আকসিত আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, টিএস১৪০০ ইঞ্জিন উড্ডয়ন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিপক্বতা অর্জন করেছে এবং এর ব্যাপক উৎপাদনের ইউনিটও তৈরি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী ধাপে ইঞ্জিনটির সনদপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর গোকবেইতে দেশীয় ইঞ্জিন যুক্ত করে গ্রাহক ও সামরিক বাহিনীর জন্য ব্যাপক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এজন্য আরও বেশ কিছু পরীক্ষা বাকি রয়েছে। বর্তমানে প্রায় আট ধরনের ইঞ্জিন সমান্তরালভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আকসিত আরও জানান, টিএফ৬০০০ জেট ইঞ্জিনের কার্যক্রমভিত্তিক পরীক্ষাও সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং এটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে বায়কারের কাছে এই ইঞ্জিন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও শক্তিশালী টিইআই-টিএফ১০০০০ ইঞ্জিনটি আগামী বছরের শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণ সক্ষমতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত এক দশকে টিইআইয়ের প্রকৌশল ও গবেষণা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ বছর আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রকৌশলী ও গবেষণা-উন্নয়ন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ জন, বর্তমানে শুধুমাত্র প্রকৌশলীর সংখ্যাই প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। সব মিলিয়ে প্রকৌশল বিভাগে এখন প্রায় ২ হাজার কর্মী কর্মরত আছেন।

বর্তমানে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের সঙ্গে টিইআই রপ্তানি চুক্তির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্বিতীয় একটি বিদেশি ক্রেতার সঙ্গেও বিক্রির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া টিইআইয়ের তৈরি ডিজেলচালিত উড়োজাহাজ ইঞ্জিন বর্তমানে বায়রাকতার টিবি৩, আকসুঙ্গুর ও আনকা ড্রোনে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মানববিহীন আকাশযানের প্রপালশন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মোট ২০ হাজার ঘণ্টা কার্যকর উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে এবং চলতি বছরই ১০০টির বেশি ড্রোন ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে টিইআই।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে দেশের প্রথম সরকারি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব ইঞ্জিনে আকাশ জয়ের পথে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও আকাশযান খাতে ব্যবহারের জন্য দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন এখন প্রস্তুত হচ্ছে। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) ইঞ্জিন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টিইআই তাদের উদ্ভাবিত টিইআই-টিএস১৪০০ ইঞ্জিন গোকবেই হেলিকপ্টারে এবং টিইআই-টিএফ৬০০০ ইঞ্জিন বায়কারের কিজিলেলমা মানববিহীন আকাশযানে ব্যবহারের জন্য সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

টিইআইয়ের মহাব্যবস্থাপক মাহমুত ফারুক আকসিত আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, টিএস১৪০০ ইঞ্জিন উড্ডয়ন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিপক্বতা অর্জন করেছে এবং এর ব্যাপক উৎপাদনের ইউনিটও তৈরি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী ধাপে ইঞ্জিনটির সনদপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর গোকবেইতে দেশীয় ইঞ্জিন যুক্ত করে গ্রাহক ও সামরিক বাহিনীর জন্য ব্যাপক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এজন্য আরও বেশ কিছু পরীক্ষা বাকি রয়েছে। বর্তমানে প্রায় আট ধরনের ইঞ্জিন সমান্তরালভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আকসিত আরও জানান, টিএফ৬০০০ জেট ইঞ্জিনের কার্যক্রমভিত্তিক পরীক্ষাও সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং এটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে বায়কারের কাছে এই ইঞ্জিন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও শক্তিশালী টিইআই-টিএফ১০০০০ ইঞ্জিনটি আগামী বছরের শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণ সক্ষমতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত এক দশকে টিইআইয়ের প্রকৌশল ও গবেষণা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ বছর আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রকৌশলী ও গবেষণা-উন্নয়ন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ জন, বর্তমানে শুধুমাত্র প্রকৌশলীর সংখ্যাই প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। সব মিলিয়ে প্রকৌশল বিভাগে এখন প্রায় ২ হাজার কর্মী কর্মরত আছেন।

বর্তমানে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের সঙ্গে টিইআই রপ্তানি চুক্তির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্বিতীয় একটি বিদেশি ক্রেতার সঙ্গেও বিক্রির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া টিইআইয়ের তৈরি ডিজেলচালিত উড়োজাহাজ ইঞ্জিন বর্তমানে বায়রাকতার টিবি৩, আকসুঙ্গুর ও আনকা ড্রোনে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মানববিহীন আকাশযানের প্রপালশন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মোট ২০ হাজার ঘণ্টা কার্যকর উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে এবং চলতি বছরই ১০০টির বেশি ড্রোন ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে টিইআই।