লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা, হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতা

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সিংহভাগ পণ্যের দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

বাজারে সবথেকে উত্তাপ দেখা দিয়েছে কাঁচামরিচের দামে। তালতলা বাজারে বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দুদিন আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টির আগে এর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে দাম চড়া হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া বাজারের বাইরে ভ্যানেও প্রতি পোয়া মরিচ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। পেঁপে (৪০ টাকা) ও পটল (৬০ টাকা) ছাড়া প্রায় সব সবজিই এখন ৮০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। রামপুরা বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পেঁয়াজের দামও এক লাফে ২৫ টাকা বেড়েছে। কয়েকদিন আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং মাঝারি মানের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের তথ্যমতে, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে আসা পেঁয়াজের মোকামেই দাম বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা কিছুদিন আগেও ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ইলিশ মাছ ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা, হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সিংহভাগ পণ্যের দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

বাজারে সবথেকে উত্তাপ দেখা দিয়েছে কাঁচামরিচের দামে। তালতলা বাজারে বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দুদিন আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টির আগে এর দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে দাম চড়া হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া বাজারের বাইরে ভ্যানেও প্রতি পোয়া মরিচ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। পেঁপে (৪০ টাকা) ও পটল (৬০ টাকা) ছাড়া প্রায় সব সবজিই এখন ৮০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। রামপুরা বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পেঁয়াজের দামও এক লাফে ২৫ টাকা বেড়েছে। কয়েকদিন আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং মাঝারি মানের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের তথ্যমতে, পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে আসা পেঁয়াজের মোকামেই দাম বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা কিছুদিন আগেও ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ইলিশ মাছ ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।