লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিধিনিষেধ

ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের তেলসহ আয়ের প্রতিটি উৎসকে লক্ষ্য করে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বের কোনো দেশ বা কোম্পানি যেন তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ওয়াশিংটনের এই নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'। মার্কিন অর্থমন্ত্রী একে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসন টিকিয়ে রাখে এমন প্রতিটি অর্থনৈতিক 'লাইফলাইন' বিচ্ছিন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। যতক্ষণ না তেহরান পুরোপুরি একা হয়ে পড়ছে, ততক্ষণ এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

বিধিনিষেধের আওতায় ইরানের পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রকে লক্ষ্য করা হয়েছে—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন। স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে। তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও 'সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা' আরোপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সরাসরি ফোন করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। চীনের ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ নেই এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এদিকে, এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ডি–ডে বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বড় আকারের সামরিক অবতরণকে বোঝায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিধিনিষেধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের তেলসহ আয়ের প্রতিটি উৎসকে লক্ষ্য করে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বের কোনো দেশ বা কোম্পানি যেন তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ওয়াশিংটনের এই নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'। মার্কিন অর্থমন্ত্রী একে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডি অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসন টিকিয়ে রাখে এমন প্রতিটি অর্থনৈতিক 'লাইফলাইন' বিচ্ছিন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। যতক্ষণ না তেহরান পুরোপুরি একা হয়ে পড়ছে, ততক্ষণ এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

বিধিনিষেধের আওতায় ইরানের পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রকে লক্ষ্য করা হয়েছে—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন। স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে। তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও 'সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা' আরোপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সরাসরি ফোন করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। চীনের ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ নেই এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এদিকে, এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে পৌঁছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ডি–ডে বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বড় আকারের সামরিক অবতরণকে বোঝায়।