লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, বাতিল হতে পারে গ্রেস পিরিয়ড

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য বিদেশি কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা সুযোগ বাতিলের একটি প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসাসহ বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ২০১৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন চাকরি বা স্পনসর খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পান। এই সময়ের মধ্যে তারা বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের মতো ব্যক্তিগত কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুযোগ আর থাকবে না।

ডিএইচএস জানিয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার পর নতুন নিয়োগকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মী পুনরায় ভিসার আবেদন করতে পারবেন, তবে নতুন নিয়মে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারত ও চীন থেকে আসা দক্ষ কর্মীরা এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক এবং এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার প্রধান স্পনসর। বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীদের মতে, নিয়মটি কার্যকর হলে বহুজাতিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।

প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি নয়, বরং ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ভিসা, ই-২ ভিসা, এল-১ নির্বাহী ও ব্যবস্থাপক ভিসা এবং ও-১ অসাধারণ দক্ষতার ভিসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও চিলির বিশেষ দক্ষ কর্মীদের ভিসাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছেন। এর অংশ হিসেবে বৈধ অভিবাসন সীমিত করা এবং ভিসা ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী দুই মাস জনমত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মতামত জানাতে পারবে। এরপর মার্কিন প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার গুরুত্ব অনেক। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই ভিসা চালু করে। বিশেষ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি১ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দক্ষতার কর্মীদের জন্য ই-৩ ভিসাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, বাতিল হতে পারে গ্রেস পিরিয়ড

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য বিদেশি কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা সুযোগ বাতিলের একটি প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসাসহ বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ২০১৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন চাকরি বা স্পনসর খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পান। এই সময়ের মধ্যে তারা বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের মতো ব্যক্তিগত কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুযোগ আর থাকবে না।

ডিএইচএস জানিয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার পর নতুন নিয়োগকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মী পুনরায় ভিসার আবেদন করতে পারবেন, তবে নতুন নিয়মে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারত ও চীন থেকে আসা দক্ষ কর্মীরা এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক এবং এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার প্রধান স্পনসর। বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীদের মতে, নিয়মটি কার্যকর হলে বহুজাতিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।

প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি নয়, বরং ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ভিসা, ই-২ ভিসা, এল-১ নির্বাহী ও ব্যবস্থাপক ভিসা এবং ও-১ অসাধারণ দক্ষতার ভিসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও চিলির বিশেষ দক্ষ কর্মীদের ভিসাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছেন। এর অংশ হিসেবে বৈধ অভিবাসন সীমিত করা এবং ভিসা ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী দুই মাস জনমত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মতামত জানাতে পারবে। এরপর মার্কিন প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার গুরুত্ব অনেক। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই ভিসা চালু করে। বিশেষ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি১ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দক্ষতার কর্মীদের জন্য ই-৩ ভিসাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।