লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মথুরা-বৃন্দাবনে বিশাল মন্দির চত্বর গড়ে তোলার ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের

অযোধ্যা ও কাশীর আদলে এবার মথুরা-বৃন্দাবনেও একটি বিশাল মন্দির চত্বর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০৭: ৪৬ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, অযোধ্যা ধামে বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির তৈরি হয়েছে। এবার একই ধরনের বিশাল পরিকাঠামো মথুরা-বৃন্দাবনেও গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ব্রজভূমির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় করা হবে। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ‘কাশী-মথুরা’ ইস্যুটি আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। করসেবক ও সংঘ পরিবারের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক স্লোগান ‘বাবরি পহেলা ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। হিন্দুত্ববাদীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে কাশীর জ্ঞানভাপী ও মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদকে ঘিরে দাবি জানিয়ে আসছে এবং এসব স্থাপনা ভেঙে সেখানে মন্দির নির্মাণের দাবিও রয়েছে। তবে শুক্রবারের বক্তব্যে যোগী আদিত্যনাথ মূলত মথুরা-বৃন্দাবনে মন্দির চত্বর গড়ে তোলা এবং ব্রজভূমির উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাই তুলে ধরেন।

বক্তব্যে সনাতন ধর্মের সহনশীলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, অতীতে ভারতের ওপর বহুবার বিদেশি আক্রমণ হয়েছে এবং জোর করে অন্য ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু কেউ সনাতন ধর্মকে মুছে ফেলতে পারেনি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫ হাজার বছর আগের বাণী আজও প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি ‘পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম’ শ্লোকটি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যেখানেই শুভ শক্তি রয়েছে, তা সব সময় সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও বিশ্বাসের ক্ষতি করতে চায় এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে—এমন দেশবিরোধী ও সমাজবিরোধী শক্তিকেও কড়া বার্তা দেন তিনি।

মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি ব্রজভূমির সার্বিক উন্নয়নে একাধিক অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উত্তরপ্রদেশ ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদের নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে মথুরা ও বৃন্দাবনের মধ্যকার ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই পথে রেলবাস পরিষেবা বন্ধ করে সেখানে একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

পরিষদের সিইও লক্ষ্মী নাগাপ্পান জানান, সংস্কৃতি দপ্তরের ‘স্মারক মিত্র’ প্রকল্পের আদলে ব্রজ অঞ্চলে ‘তীর্থ মিত্র’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অথচ বর্তমানে ভগ্নপ্রায় ২০০টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও স্মৃতিসৌধ চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া তীর্থযাত্রীদের বাড়তে থাকা ভিড়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্রজ চৌরাশি ক্রোশ পরিক্রমা উন্নয়ন প্রকল্প আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। ব্রজ অঞ্চলের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য সংরক্ষণের কথাও বৈঠকে বলা হয়েছে।

অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা রাজস্ব ভাগাভাগি মডেলে বহুতল পার্কিং নির্মাণ, যেখানে ডরমিটরি, ক্যাফে ও ফুড কোর্ট থাকবে। গোবর্ধন পরিক্রমা পথে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১০টি গল্ফ কার্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে হায়দরাবাদের হার্টfulness ফাউন্ডেশন। পরিক্রমার পথগুলো আরও মসৃণ করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির সময় যাতে পথ পিচ্ছিল না হয় এবং ভক্তদের পায়ে আঘাত না লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মথুরার নোনা জলের সমস্যা সমাধানে জল সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়াতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও আরও পুকুর খননের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উৎসবের মৌসুমে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে এবং ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। এছাড়া শহর পরিষ্কার রাখতে দুই দফায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠকে সাংবাদিকদের মতামত গ্রহণ

মথুরা-বৃন্দাবনে বিশাল মন্দির চত্বর গড়ে তোলার ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অযোধ্যা ও কাশীর আদলে এবার মথুরা-বৃন্দাবনেও একটি বিশাল মন্দির চত্বর গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০৭: ৪৬ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, অযোধ্যা ধামে বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির তৈরি হয়েছে। এবার একই ধরনের বিশাল পরিকাঠামো মথুরা-বৃন্দাবনেও গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ব্রজভূমির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় করা হবে। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ‘কাশী-মথুরা’ ইস্যুটি আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। করসেবক ও সংঘ পরিবারের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক স্লোগান ‘বাবরি পহেলা ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। হিন্দুত্ববাদীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে কাশীর জ্ঞানভাপী ও মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদকে ঘিরে দাবি জানিয়ে আসছে এবং এসব স্থাপনা ভেঙে সেখানে মন্দির নির্মাণের দাবিও রয়েছে। তবে শুক্রবারের বক্তব্যে যোগী আদিত্যনাথ মূলত মথুরা-বৃন্দাবনে মন্দির চত্বর গড়ে তোলা এবং ব্রজভূমির উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাই তুলে ধরেন।

বক্তব্যে সনাতন ধর্মের সহনশীলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, অতীতে ভারতের ওপর বহুবার বিদেশি আক্রমণ হয়েছে এবং জোর করে অন্য ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু কেউ সনাতন ধর্মকে মুছে ফেলতে পারেনি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫ হাজার বছর আগের বাণী আজও প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি ‘পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম’ শ্লোকটি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যেখানেই শুভ শক্তি রয়েছে, তা সব সময় সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও বিশ্বাসের ক্ষতি করতে চায় এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে—এমন দেশবিরোধী ও সমাজবিরোধী শক্তিকেও কড়া বার্তা দেন তিনি।

মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি ব্রজভূমির সার্বিক উন্নয়নে একাধিক অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উত্তরপ্রদেশ ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদের নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে মথুরা ও বৃন্দাবনের মধ্যকার ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই পথে রেলবাস পরিষেবা বন্ধ করে সেখানে একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

পরিষদের সিইও লক্ষ্মী নাগাপ্পান জানান, সংস্কৃতি দপ্তরের ‘স্মারক মিত্র’ প্রকল্পের আদলে ব্রজ অঞ্চলে ‘তীর্থ মিত্র’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অথচ বর্তমানে ভগ্নপ্রায় ২০০টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও স্মৃতিসৌধ চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া তীর্থযাত্রীদের বাড়তে থাকা ভিড়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্রজ চৌরাশি ক্রোশ পরিক্রমা উন্নয়ন প্রকল্প আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। ব্রজ অঞ্চলের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য সংরক্ষণের কথাও বৈঠকে বলা হয়েছে।

অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা রাজস্ব ভাগাভাগি মডেলে বহুতল পার্কিং নির্মাণ, যেখানে ডরমিটরি, ক্যাফে ও ফুড কোর্ট থাকবে। গোবর্ধন পরিক্রমা পথে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১০টি গল্ফ কার্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে হায়দরাবাদের হার্টfulness ফাউন্ডেশন। পরিক্রমার পথগুলো আরও মসৃণ করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির সময় যাতে পথ পিচ্ছিল না হয় এবং ভক্তদের পায়ে আঘাত না লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মথুরার নোনা জলের সমস্যা সমাধানে জল সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়াতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও আরও পুকুর খননের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উৎসবের মৌসুমে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে এবং ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। এছাড়া শহর পরিষ্কার রাখতে দুই দফায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।