লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রুত সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর সুপারিশ করবে বিআইডব্লিউটিএ

দ্রুত সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর সুপারিশ করবে বিআইডব্লিউটিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত বন্দরটি চালুর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শনের সময় তিনি এই আশ্বাস দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “বন্দরটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কারিগরি দিকগুলো সন্তোষজনক। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে বন্দরটি দ্রুত সচল করতে আমরা এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয় করব।” বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন যোগ করেন, এখন শুধু এনবিআরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বন্দরটি।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও আর্থিক ক্ষতি

দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরটি চালু না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন, পণ্যবাহী জাহাজও প্রস্তুত আছে। কিন্তু বন্দর চালু না হওয়ায় আমাদের পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নৌপথে পাথর আমদানি অনেক সাশ্রয়ী। এ বন্দর চালু হলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই কমবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস

প্রায় ছয় দশক আগে চালু থাকা এ নৌরুটটি ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায়। ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হলেও মাত্র ১০ দিনের মাথায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বন্দরটি পরিদর্শনের পর দ্রুত চালুর নির্দেশনা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

কেন এই নৌবন্দর গুরুত্বপূর্ণ?

সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রুটটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।

  • আমদানি: সিমেন্টের কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ও খাদ্যসামগ্রী।

  • রপ্তানি: বস্ত্র, মাছ, পাটজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কিছু মহল ও এনবিআরের সমন্বয়হীনতায় বন্দরটি স্থবির হয়ে আছে। তবে সব বাধা কাটিয়ে শিগগির সুলতানগঞ্জ বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশাবাদী বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ এইচআরডব্লিউর

দ্রুত সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর সুপারিশ করবে বিআইডব্লিউটিএ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দ্রুত সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর সুপারিশ করবে বিআইডব্লিউটিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত বন্দরটি চালুর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শনের সময় তিনি এই আশ্বাস দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “বন্দরটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কারিগরি দিকগুলো সন্তোষজনক। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে বন্দরটি দ্রুত সচল করতে আমরা এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয় করব।” বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন যোগ করেন, এখন শুধু এনবিআরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বন্দরটি।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও আর্থিক ক্ষতি

দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরটি চালু না হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন, পণ্যবাহী জাহাজও প্রস্তুত আছে। কিন্তু বন্দর চালু না হওয়ায় আমাদের পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নৌপথে পাথর আমদানি অনেক সাশ্রয়ী। এ বন্দর চালু হলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই কমবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস

প্রায় ছয় দশক আগে চালু থাকা এ নৌরুটটি ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায়। ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হলেও মাত্র ১০ দিনের মাথায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বন্দরটি পরিদর্শনের পর দ্রুত চালুর নির্দেশনা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

কেন এই নৌবন্দর গুরুত্বপূর্ণ?

সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রুটটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।

  • আমদানি: সিমেন্টের কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ও খাদ্যসামগ্রী।

  • রপ্তানি: বস্ত্র, মাছ, পাটজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কিছু মহল ও এনবিআরের সমন্বয়হীনতায় বন্দরটি স্থবির হয়ে আছে। তবে সব বাধা কাটিয়ে শিগগির সুলতানগঞ্জ বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশাবাদী বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।