লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

অল্প সময়ে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে ত্রাস সৃষ্টি করা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক জানিয়েছেন, চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের পর পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পুনরায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, ২৩ মে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, হাটহাজারীতে জোড়া খুন এবং চান্দগাঁওয়ে আফতাব হত্যা মামলা। এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হাতে তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ইমন ওমানপ্রবাসী প্রয়াত মো. মুসার সন্তান। ছোটবেলায় ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা ইমন একসময় চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতেন এবং বাঁহাতি লেগ স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২০ সালের পর খেলা থেকে হারিয়ে যান তিনি। পরিবার ও আত্মীয়দের তথ্যমতে, এসএসসি পাস করা ইমন করোনার পর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।

২০২২ সালে ওমানে যাওয়ার পর বছরখানেক শেষে দেশে ফেরেন ইমন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান তিনি। বায়েজীদ বোস্তামী এলাকার আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পুলিশের মতে, বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান।

ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবির জন্য কুখ্যাত ইমন নিজেকে ‘বড়লোক হওয়ার’ নেশায় অপরাধের পথে আসার কথা স্বীকার করেছেন। ১৩ জুলাই বাকলিয়ায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, তাঁর কাছে দুটি পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি অস্ত্র পরিচালনায় অত্যন্ত দক্ষ। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বায়েজীদ থানার একটি দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার হলেও ২২ দিনের মাথায় জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবি ক্যাম্পাসে ২৫ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

অল্প সময়ে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে ত্রাস সৃষ্টি করা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক জানিয়েছেন, চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের পর পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পুনরায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, ২৩ মে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, হাটহাজারীতে জোড়া খুন এবং চান্দগাঁওয়ে আফতাব হত্যা মামলা। এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হাতে তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ইমন ওমানপ্রবাসী প্রয়াত মো. মুসার সন্তান। ছোটবেলায় ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা ইমন একসময় চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতেন এবং বাঁহাতি লেগ স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২০ সালের পর খেলা থেকে হারিয়ে যান তিনি। পরিবার ও আত্মীয়দের তথ্যমতে, এসএসসি পাস করা ইমন করোনার পর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।

২০২২ সালে ওমানে যাওয়ার পর বছরখানেক শেষে দেশে ফেরেন ইমন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান তিনি। বায়েজীদ বোস্তামী এলাকার আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পুলিশের মতে, বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান।

ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবির জন্য কুখ্যাত ইমন নিজেকে ‘বড়লোক হওয়ার’ নেশায় অপরাধের পথে আসার কথা স্বীকার করেছেন। ১৩ জুলাই বাকলিয়ায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, তাঁর কাছে দুটি পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি অস্ত্র পরিচালনায় অত্যন্ত দক্ষ। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বায়েজীদ থানার একটি দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার হলেও ২২ দিনের মাথায় জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।