লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের দাবানলে নতুন আতঙ্ক ‘ফায়ার ক্লাউড’, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

ফ্রান্স ও স্পেনে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বা ‘ফায়ার ক্লাউড’ নামে নতুন এক আবহাওয়াগত বিপদ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, এই বিরল ঘটনা দাবানলকে আরও তীব্র ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সাধারণত তীব্র গরম, শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাস দাবানল বিস্তারের জন্য দায়ী হলেও, বড় দাবানলগুলো কখনও কখনও নিজস্ব আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ হলো এই ফায়ার ক্লাউড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের তীব্র তাপে বিপুল পরিমাণ শক্তি ও ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের উঁচুতে উঠে যায়। পর্যাপ্ত উচ্চতায় পৌঁছানোর পর নিম্নচাপের প্রভাবে ধোঁয়া ঠান্ডা হতে থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ঘনীভূত হয়ে বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি করে। নাসা এই মেঘকে ‘মেঘের আগুন-উগরানো ড্রাগন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই মেঘ থেকে বজ্রপাত, প্রবল দমকা হাওয়া এবং নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ধোঁয়ার স্তম্ভ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও প্রবেশ করতে পারে।

নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবানল গবেষণা দলের অধ্যাপক রিক ম্যাকরে জানান, ফায়ার ক্লাউড মূলত ধোঁয়ার ভেতরে তৈরি হওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ বজ্রঝড়, যা প্রায় ১০ হাজার ঘনকিলোমিটার বায়ুমণ্ডলকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি দাবানলের গতিপথ অনিশ্চিত করে তোলে এবং দমকলকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক করে দেয়। ম্যাকরের মতে, ফায়ার ক্লাউড তৈরি হওয়া মানেই দাবানল চরম বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, এই মেঘের কারণে ব্যাপক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় শতকের শুরু থেকে নিয়মিত ফায়ার ক্লাউডের ঘটনা ঘটলেও, ফ্রান্সের ইতিহাসে এটি প্রথম নথিভুক্ত পাইরোকিউমুলোনিম্বাস হতে যাচ্ছে। রিক ম্যাকরে জানান, ফ্রান্সকে প্রথমবারের মতো এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং আগামী মঙ্গলবার বা বুধবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া ও ভূমির বৈশিষ্ট্যে যে পরিবর্তন আসছে, তা এই ধরনের চরম আবহাওয়া তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। জলবায়ু মডেলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও তীব্র হতে পারে। পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব এবং একের পর এক তাপপ্রবাহ ইউরোপের বনাঞ্চলগুলোকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তুলেছে, যা দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলেও এমন মেঘ তৈরি হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ: ত্রাণ মন্ত্রী

ইউরোপের দাবানলে নতুন আতঙ্ক ‘ফায়ার ক্লাউড’, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্স ও স্পেনে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বা ‘ফায়ার ক্লাউড’ নামে নতুন এক আবহাওয়াগত বিপদ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, এই বিরল ঘটনা দাবানলকে আরও তীব্র ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সাধারণত তীব্র গরম, শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাস দাবানল বিস্তারের জন্য দায়ী হলেও, বড় দাবানলগুলো কখনও কখনও নিজস্ব আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ হলো এই ফায়ার ক্লাউড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের তীব্র তাপে বিপুল পরিমাণ শক্তি ও ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের উঁচুতে উঠে যায়। পর্যাপ্ত উচ্চতায় পৌঁছানোর পর নিম্নচাপের প্রভাবে ধোঁয়া ঠান্ডা হতে থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ঘনীভূত হয়ে বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি করে। নাসা এই মেঘকে ‘মেঘের আগুন-উগরানো ড্রাগন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই মেঘ থেকে বজ্রপাত, প্রবল দমকা হাওয়া এবং নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ধোঁয়ার স্তম্ভ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও প্রবেশ করতে পারে।

নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবানল গবেষণা দলের অধ্যাপক রিক ম্যাকরে জানান, ফায়ার ক্লাউড মূলত ধোঁয়ার ভেতরে তৈরি হওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ বজ্রঝড়, যা প্রায় ১০ হাজার ঘনকিলোমিটার বায়ুমণ্ডলকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি দাবানলের গতিপথ অনিশ্চিত করে তোলে এবং দমকলকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক করে দেয়। ম্যাকরের মতে, ফায়ার ক্লাউড তৈরি হওয়া মানেই দাবানল চরম বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, এই মেঘের কারণে ব্যাপক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় শতকের শুরু থেকে নিয়মিত ফায়ার ক্লাউডের ঘটনা ঘটলেও, ফ্রান্সের ইতিহাসে এটি প্রথম নথিভুক্ত পাইরোকিউমুলোনিম্বাস হতে যাচ্ছে। রিক ম্যাকরে জানান, ফ্রান্সকে প্রথমবারের মতো এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং আগামী মঙ্গলবার বা বুধবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া ও ভূমির বৈশিষ্ট্যে যে পরিবর্তন আসছে, তা এই ধরনের চরম আবহাওয়া তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। জলবায়ু মডেলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও তীব্র হতে পারে। পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব এবং একের পর এক তাপপ্রবাহ ইউরোপের বনাঞ্চলগুলোকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তুলেছে, যা দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলেও এমন মেঘ তৈরি হয়েছিল।