লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকশীগঞ্জ সীমান্তে সেই বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র পাচ্ছেন পাকা ঘর, মিলছে স্থায়ী ঠিকানা

বকশীগঞ্জ সীমান্তে সেই বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র পাচ্ছেন পাকা ঘর, মিলছে স্থায়ী ঠিকানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | গোদাগাড়ী, রাজশাহী

জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ-এর কথিত পুশইনের শিকার হয়ে আলোচনায় আসা রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫) এবার পাচ্ছেন নতুন জীবন। চরম মানবেতর জীবনযাপন করা এই বৃদ্ধকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি পাকা ঘর। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আবাসস্থল খাসজমিটিও তার নামে বন্দোবস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।

গত ১০ জুন বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন ষষ্টি চন্দ্র। তার অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের।

আশ্রয়ের নতুন স্বপ্ন

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি মজবুত পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি যেখানে বসবাস করছেন, সেই খাসজমিটি আইনি প্রক্রিয়ায় তার নামে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর থেকেই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তাকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এখন স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ঘরের কাজ শুরু করা হচ্ছে। ভূমি বন্দোবস্তের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ

গত ১৪ জুন ইউএনও’র কার্যালয়ে ডেকে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন ইউএনও ইসরাত জাহান। এসময় তাকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোমিনুল হক বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার ঘরটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।”

স্থানীয়দের স্বস্তি

ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের জন্য সরকারি ঘর নির্মাণের খবরে স্বস্তি ফিরেছে তার এলাকা মোহনপুর ইউনিয়নে। বিষয়টি নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

ষষ্টি চন্দ্রের জামাতা গৌরী চন্দ্র বর্মন বলেন, “গণমাধ্যম ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা আজ বড় একটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেলাম। প্রশাসনের এমন মানবিক সিদ্ধান্তে আমরা খুবই খুশি।”

মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “অসহায় একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকরা একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি তার জীবনের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

শূন্যরেখায় সেই ২৪ ঘণ্টার বিভীষিকাময় মুহূর্ত পেছনে ফেলে, এখন স্থায়ী ঠিকানায় মাথা গোঁজার অপেক্ষায় দিন গুনছেন ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাষ্ট্র ও মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই একজন অসহায় মানুষের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, চালক নিহত

বকশীগঞ্জ সীমান্তে সেই বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র পাচ্ছেন পাকা ঘর, মিলছে স্থায়ী ঠিকানা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বকশীগঞ্জ সীমান্তে সেই বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র পাচ্ছেন পাকা ঘর, মিলছে স্থায়ী ঠিকানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | গোদাগাড়ী, রাজশাহী

জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ-এর কথিত পুশইনের শিকার হয়ে আলোচনায় আসা রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫) এবার পাচ্ছেন নতুন জীবন। চরম মানবেতর জীবনযাপন করা এই বৃদ্ধকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি পাকা ঘর। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আবাসস্থল খাসজমিটিও তার নামে বন্দোবস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।

গত ১০ জুন বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন ষষ্টি চন্দ্র। তার অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের।

আশ্রয়ের নতুন স্বপ্ন

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি মজবুত পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি যেখানে বসবাস করছেন, সেই খাসজমিটি আইনি প্রক্রিয়ায় তার নামে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর থেকেই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তাকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এখন স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ঘরের কাজ শুরু করা হচ্ছে। ভূমি বন্দোবস্তের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ

গত ১৪ জুন ইউএনও’র কার্যালয়ে ডেকে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন ইউএনও ইসরাত জাহান। এসময় তাকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোমিনুল হক বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার ঘরটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।”

স্থানীয়দের স্বস্তি

ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের জন্য সরকারি ঘর নির্মাণের খবরে স্বস্তি ফিরেছে তার এলাকা মোহনপুর ইউনিয়নে। বিষয়টি নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

ষষ্টি চন্দ্রের জামাতা গৌরী চন্দ্র বর্মন বলেন, “গণমাধ্যম ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা আজ বড় একটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেলাম। প্রশাসনের এমন মানবিক সিদ্ধান্তে আমরা খুবই খুশি।”

মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “অসহায় একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকরা একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি তার জীবনের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

শূন্যরেখায় সেই ২৪ ঘণ্টার বিভীষিকাময় মুহূর্ত পেছনে ফেলে, এখন স্থায়ী ঠিকানায় মাথা গোঁজার অপেক্ষায় দিন গুনছেন ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাষ্ট্র ও মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই একজন অসহায় মানুষের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।