লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মগবাজার শাখার লাইসেন্স বাতিল: জুরাইন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা, মিলছে অনিয়মের অভিযোগ

 মগবাজার শাখার লাইসেন্স বাতিল: জুরাইন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা, মিলছে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত ঘোষণার পর ঢাকার জুরাইনস্থ ‘আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক হাসপাতাল’-এর সেবা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মগবাজার শাখার ঘটনার প্রেক্ষিতে জুরাইন শাখার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই শাখার কার্যক্রম আপাতত স্বাভাবিক থাকবে।

বন্ধ হচ্ছে না জুরাইন শাখা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতিটি হাসপাতাল শাখা সরকারের কাছ থেকে পৃথক লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গত ২৭ মে মগবাজার শাখার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি ও ভেন্টিলেশন সংকটে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শাখার চরম অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় শুধু সেই শাখাটির লাইসেন্সই বাতিল করা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে জুরাইন শাখার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং এখানে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তবে মগবাজারের ঘটনার পর সরকারি নজরদারি ও তদারকি জোরদার হওয়ায় জুরাইন শাখায় প্রশাসনিক কড়াকড়ি বেড়েছে। এছাড়া মগবাজারের রোগীরা স্থানান্তরিত হওয়ায় এই হাসপাতালে রোগীর চাপও সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনিয়ম ও মুনাফালোভী হওয়ার অভিযোগ:

এদিকে, হাসপাতালটি স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চিকিৎসা সেবার আড়ালে নানা অনিয়মের চিত্র। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের স্টাফ, নার্স থেকে শুরু করে আয়া-বুয়াদের ‘বকশিস’ না দিলে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়।

অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন যে, ক্লিনিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও রোগীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, এখানে মানবসেবার চেয়ে মুনাফা অর্জনকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগী বলেন, “সেবা নিতে এসে উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হয়। হাসপাতালের অসাধু চক্রের এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

প্রশাসনের কাছে দাবি:

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি শাখার লাইসেন্স বাতিলের ঘটনার পর অন্যান্য শাখাগুলোতেও যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করা উচিত। বিশেষ করে জুরাইন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রুখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, মগবাজারের ঘটনার পর তারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে জনগণের আস্থার সংকট কাটাতে কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রকৃত সেবার মানোন্নয়নই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘কিং’ সিনেমায় গাইছেন অরিজিৎ সিং, ইঙ্গিত দিলেন শাহরুখ

মগবাজার শাখার লাইসেন্স বাতিল: জুরাইন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা, মিলছে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

 মগবাজার শাখার লাইসেন্স বাতিল: জুরাইন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা, মিলছে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত ঘোষণার পর ঢাকার জুরাইনস্থ ‘আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক হাসপাতাল’-এর সেবা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মগবাজার শাখার ঘটনার প্রেক্ষিতে জুরাইন শাখার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই শাখার কার্যক্রম আপাতত স্বাভাবিক থাকবে।

বন্ধ হচ্ছে না জুরাইন শাখা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতিটি হাসপাতাল শাখা সরকারের কাছ থেকে পৃথক লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গত ২৭ মে মগবাজার শাখার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি ও ভেন্টিলেশন সংকটে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শাখার চরম অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় শুধু সেই শাখাটির লাইসেন্সই বাতিল করা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে জুরাইন শাখার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং এখানে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তবে মগবাজারের ঘটনার পর সরকারি নজরদারি ও তদারকি জোরদার হওয়ায় জুরাইন শাখায় প্রশাসনিক কড়াকড়ি বেড়েছে। এছাড়া মগবাজারের রোগীরা স্থানান্তরিত হওয়ায় এই হাসপাতালে রোগীর চাপও সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনিয়ম ও মুনাফালোভী হওয়ার অভিযোগ:

এদিকে, হাসপাতালটি স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চিকিৎসা সেবার আড়ালে নানা অনিয়মের চিত্র। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের স্টাফ, নার্স থেকে শুরু করে আয়া-বুয়াদের ‘বকশিস’ না দিলে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়।

অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন যে, ক্লিনিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও রোগীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, এখানে মানবসেবার চেয়ে মুনাফা অর্জনকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগী বলেন, “সেবা নিতে এসে উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হয়। হাসপাতালের অসাধু চক্রের এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

প্রশাসনের কাছে দাবি:

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি শাখার লাইসেন্স বাতিলের ঘটনার পর অন্যান্য শাখাগুলোতেও যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করা উচিত। বিশেষ করে জুরাইন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রুখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, মগবাজারের ঘটনার পর তারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে জনগণের আস্থার সংকট কাটাতে কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রকৃত সেবার মানোন্নয়নই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য।