লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০০ বছর আগের কাবিননামায় কনের তিন শর্ত, সাক্ষী জাতীয় জাদুঘর

জাতীয় জাদুঘরের তৃতীয় তলার ৩৩ নম্বর গ্যালারিতে কাচের বাক্সে রাখা একটি বিবর্ণ ঐতিহাসিক দলিল এখন দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। ফারসি ভাষায় লেখা এই দলিলটি মূলত প্রায় দুই শতাব্দী আগের একটি কাবিননামা, যেখানে দাম্পত্য জীবনের নিরাপত্তা ও নিজের অধিকার রক্ষায় এক কনের দেওয়া তিনটি শর্তের উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ২০৩ বছর আগের এই দলিলটি তৎকালীন সময়ে একজন নারীর নিজের অধিকার নিয়ে দর-কষাকষির এক অনন্য ঐতিহাসিক সাক্ষী।

১৮২৩ সালের অক্টোবরে মুকিমপুরের সৈয়দ নেজাবত আলী চৌধুরীর মেয়ে আফসারুন নেসা খাতুনের সঙ্গে তালিবাবাদের জমিদার হোসেন উদ্দীন চৌধুরীর বিয়ে হয়। অত্যন্ত ধুমধাম করে আয়োজিত এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে যে কাবিননামা তৈরি করা হয়েছিল, তাতে কনের পক্ষ থেকে তিনটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলো ছিল—বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না, একাধারে sechs মাস স্ত্রীকে ফেলে দূরে থাকতে পারবেন না এবং স্ত্রীর কোনো ভুলত্রুটি হলে স্বামী মারধর করতে পারলেও শরীরে কোনো আঘাতের দাগ ফেলতে পারবেন না। জমিদার হোসেন উদ্দীন চৌধুরী কনের সব শর্ত মেনে নিয়ে এই দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই বিয়ের দেনমোহরও ছিল বেশ চড়া—পাঁচ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ও ৫০ হাজার রৌপ্যমুদ্রা।

তবে এই কাবিননামাটির সময়কাল নিয়ে একটি ঐতিহাসিক অসংগতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারিতে থাকা সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও নথিতে বিয়ের সাল ১৯২৩ উল্লেখ করা হলেও গবেষকেরা একে ১৮২৩ সালের দলিল হিসেবেই মনে করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান মুমিত আল রশিদ দলিলটির পাঠোদ্ধার করে জানান, কাবিননামার নিচের অংশে ১২০০ হিজরি লেখা রয়েছে। ফলে এটি ১৯২৩ সালের হওয়ার সুযোগ নেই, বরং ১৮২৩ সালের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সময়কাল নিশ্চিত করতে তিনি এই দলিলের ছবি ইরান ও সিরিয়ার বিশেষজ্ঞদেরও দেখিয়েছেন।

এই মূল্যবান দলিলটি ঢাকা জাদুঘরের (বর্তমান জাতীয় জাদুঘর) সাবেক ট্রাস্টি, লেখক ও ইতিহাসবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর জাদুঘরকে উপহার দিয়েছিলেন। তিনি প্রাচীন ও মোগল আমলের মুদ্রা, প্রত্নসামগ্রী এবং পূর্ব ভারতের অস্ত্রশস্ত্রসহ দুই শতাধিক দুর্লভ সামগ্রী জাদুঘরে দান করেন। তবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৬৫ সালের আগের অধিকাংশ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সালের তথ্য তাদের পুরোনো রেজিস্ট্রারে নেই; সেখানে কেবল দাতার নাম হিসেবে সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর উল্লেখ রয়েছে।

এমন শর্তযুক্ত ঐতিহাসিক কাবিননামা কেবল এটিই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরেও এর আরেকটি নিদর্শন রয়েছে। ১৯৭৬ সালে ৩০ টাকায় কেনা ওই কাবিননামাটির বাংলা অনুবাদ করেছেন জাদুঘরের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ গবেষক হাফিজ মাহবুবুর রহমান। ১৮২৬ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন ইসলামাবাদের ফতেহাবাদের (বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ) মীর মদনের ছেলে মীর আমানি ওরফে মীর খানের সঙ্গে ফতেপুরের খোন্দকার মুনিরুদ্দিনের মেয়ে মুছাম্মৎ লুতফুন নিসার বিয়েতে এই চুক্তিটি তৈরি হয়। ছৈয়দ মোহাম্মদ বাছেরের লেখা এই কাবিননামায় চারটি শর্ত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে না করা, অনুমতি ছাড়া দূর প্রবাসে না যাওয়া, দেনমোহর ও সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যেতে স্ত্রীকে বাধা না দেওয়া। বর্তমানে এটি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।

এ ধরনের শর্তযুক্ত কাবিননামার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানান, সে সময়ে বিশেষ করে অভিজাত ও বিত্তশালী মুসলিম পরিবারগুলোর বিয়ের চুক্তিতে দেনমোহর ও দাম্পত্য জীবনের নানা শর্ত লিখিতভাবে রাখার প্রচলন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম বিবাহ আইনের বিবর্তন ও আধুনিকতার ওপর পিএইচডি করা এই গবেষক উল্লেখ করেন, তৎকালীন সমাজে একাধিক বিয়ের প্রচলন থাকায় প্রথম স্ত্রীর অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব শর্ত রাখা হতো। ১৯৭৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন পাস হওয়ার পর থেকে বর্তমানের বহুমুখী ধারাযুক্ত কাবিননামা প্রচলিত হলেও, দুই শতাব্দী আগে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়াই কেবল মৌখিক সম্মতির বাইরে গিয়ে উচ্চবিত্তরা এমন লিখিত প্রমাণ রাখতেন। জমিদারদের একাধিক বিয়ে ও উপপত্নী রাখার প্রবণতা থেকে নিজেদের দেনমোহর ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত নারীরা এই লিখিত কাবিননামা তৈরি করাতেন।

বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগের গ্যালারিতে মানুষ বিক্রির দলিল, গাছের বাকলে লেখা পুঁথি ও পুরোনো পাণ্ডুলিপির পাশেই শোভা পাচ্ছে আফসারুন নেসার এই কাবিননামা। কালের পরিক্রমায় বিয়ের আইন ও কাবিননামার কাঠামো বদলে গেলেও, কাচের বাক্সে বন্দি এই বিবর্ণ ফারসি দলিলটি আজও দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় যে, দাম্পত্য জীবনে নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নারীর সোচ্চার হওয়ার ইতিহাস বহু পুরোনো।

এরপরও যতটুকু অনুবাদ করা গেছে, তাতেই সামনে এসেছে কনের তিন শর্তসহ বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।.যা লেখা আছে ১৯৮ বছর আগের কাবিননামায়.জাতীয় জাদুঘরে গ্যালারিতে দলিলটির সামনে লেখা সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও নথিতে কাবিননামাটির সময়কাল ১৯২৩ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।কিন্তু কাবিননামার নিচের অংশে থাকা হিজরি সালের উল্লেখ দেখে মুমিত আল রশিদের ধারণা, দলিলটি আরও প্রায় ১০০ বছর আগের।জাতীয় জাদুঘরের দেওয়া তিনটি শর্তসহ কাবিননামার বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে হিজরি সালের উল্লেখ মিলিয়ে দেখেছেন মুমিত আল রশিদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে সরকার

২০০ বছর আগের কাবিননামায় কনের তিন শর্ত, সাক্ষী জাতীয় জাদুঘর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় জাদুঘরের তৃতীয় তলার ৩৩ নম্বর গ্যালারিতে কাচের বাক্সে রাখা একটি বিবর্ণ ঐতিহাসিক দলিল এখন দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। ফারসি ভাষায় লেখা এই দলিলটি মূলত প্রায় দুই শতাব্দী আগের একটি কাবিননামা, যেখানে দাম্পত্য জীবনের নিরাপত্তা ও নিজের অধিকার রক্ষায় এক কনের দেওয়া তিনটি শর্তের উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ২০৩ বছর আগের এই দলিলটি তৎকালীন সময়ে একজন নারীর নিজের অধিকার নিয়ে দর-কষাকষির এক অনন্য ঐতিহাসিক সাক্ষী।

১৮২৩ সালের অক্টোবরে মুকিমপুরের সৈয়দ নেজাবত আলী চৌধুরীর মেয়ে আফসারুন নেসা খাতুনের সঙ্গে তালিবাবাদের জমিদার হোসেন উদ্দীন চৌধুরীর বিয়ে হয়। অত্যন্ত ধুমধাম করে আয়োজিত এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে যে কাবিননামা তৈরি করা হয়েছিল, তাতে কনের পক্ষ থেকে তিনটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলো ছিল—বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না, একাধারে sechs মাস স্ত্রীকে ফেলে দূরে থাকতে পারবেন না এবং স্ত্রীর কোনো ভুলত্রুটি হলে স্বামী মারধর করতে পারলেও শরীরে কোনো আঘাতের দাগ ফেলতে পারবেন না। জমিদার হোসেন উদ্দীন চৌধুরী কনের সব শর্ত মেনে নিয়ে এই দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই বিয়ের দেনমোহরও ছিল বেশ চড়া—পাঁচ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ও ৫০ হাজার রৌপ্যমুদ্রা।

তবে এই কাবিননামাটির সময়কাল নিয়ে একটি ঐতিহাসিক অসংগতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারিতে থাকা সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও নথিতে বিয়ের সাল ১৯২৩ উল্লেখ করা হলেও গবেষকেরা একে ১৮২৩ সালের দলিল হিসেবেই মনে করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান মুমিত আল রশিদ দলিলটির পাঠোদ্ধার করে জানান, কাবিননামার নিচের অংশে ১২০০ হিজরি লেখা রয়েছে। ফলে এটি ১৯২৩ সালের হওয়ার সুযোগ নেই, বরং ১৮২৩ সালের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সময়কাল নিশ্চিত করতে তিনি এই দলিলের ছবি ইরান ও সিরিয়ার বিশেষজ্ঞদেরও দেখিয়েছেন।

এই মূল্যবান দলিলটি ঢাকা জাদুঘরের (বর্তমান জাতীয় জাদুঘর) সাবেক ট্রাস্টি, লেখক ও ইতিহাসবিদ সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর জাদুঘরকে উপহার দিয়েছিলেন। তিনি প্রাচীন ও মোগল আমলের মুদ্রা, প্রত্নসামগ্রী এবং পূর্ব ভারতের অস্ত্রশস্ত্রসহ দুই শতাধিক দুর্লভ সামগ্রী জাদুঘরে দান করেন। তবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৬৫ সালের আগের অধিকাংশ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সালের তথ্য তাদের পুরোনো রেজিস্ট্রারে নেই; সেখানে কেবল দাতার নাম হিসেবে সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর উল্লেখ রয়েছে।

এমন শর্তযুক্ত ঐতিহাসিক কাবিননামা কেবল এটিই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরেও এর আরেকটি নিদর্শন রয়েছে। ১৯৭৬ সালে ৩০ টাকায় কেনা ওই কাবিননামাটির বাংলা অনুবাদ করেছেন জাদুঘরের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ গবেষক হাফিজ মাহবুবুর রহমান। ১৮২৬ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন ইসলামাবাদের ফতেহাবাদের (বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ) মীর মদনের ছেলে মীর আমানি ওরফে মীর খানের সঙ্গে ফতেপুরের খোন্দকার মুনিরুদ্দিনের মেয়ে মুছাম্মৎ লুতফুন নিসার বিয়েতে এই চুক্তিটি তৈরি হয়। ছৈয়দ মোহাম্মদ বাছেরের লেখা এই কাবিননামায় চারটি শর্ত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে না করা, অনুমতি ছাড়া দূর প্রবাসে না যাওয়া, দেনমোহর ও সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যেতে স্ত্রীকে বাধা না দেওয়া। বর্তমানে এটি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।

এ ধরনের শর্তযুক্ত কাবিননামার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানান, সে সময়ে বিশেষ করে অভিজাত ও বিত্তশালী মুসলিম পরিবারগুলোর বিয়ের চুক্তিতে দেনমোহর ও দাম্পত্য জীবনের নানা শর্ত লিখিতভাবে রাখার প্রচলন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম বিবাহ আইনের বিবর্তন ও আধুনিকতার ওপর পিএইচডি করা এই গবেষক উল্লেখ করেন, তৎকালীন সমাজে একাধিক বিয়ের প্রচলন থাকায় প্রথম স্ত্রীর অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব শর্ত রাখা হতো। ১৯৭৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন পাস হওয়ার পর থেকে বর্তমানের বহুমুখী ধারাযুক্ত কাবিননামা প্রচলিত হলেও, দুই শতাব্দী আগে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়াই কেবল মৌখিক সম্মতির বাইরে গিয়ে উচ্চবিত্তরা এমন লিখিত প্রমাণ রাখতেন। জমিদারদের একাধিক বিয়ে ও উপপত্নী রাখার প্রবণতা থেকে নিজেদের দেনমোহর ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত নারীরা এই লিখিত কাবিননামা তৈরি করাতেন।

বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগের গ্যালারিতে মানুষ বিক্রির দলিল, গাছের বাকলে লেখা পুঁথি ও পুরোনো পাণ্ডুলিপির পাশেই শোভা পাচ্ছে আফসারুন নেসার এই কাবিননামা। কালের পরিক্রমায় বিয়ের আইন ও কাবিননামার কাঠামো বদলে গেলেও, কাচের বাক্সে বন্দি এই বিবর্ণ ফারসি দলিলটি আজও দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় যে, দাম্পত্য জীবনে নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নারীর সোচ্চার হওয়ার ইতিহাস বহু পুরোনো।

এরপরও যতটুকু অনুবাদ করা গেছে, তাতেই সামনে এসেছে কনের তিন শর্তসহ বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।.যা লেখা আছে ১৯৮ বছর আগের কাবিননামায়.জাতীয় জাদুঘরে গ্যালারিতে দলিলটির সামনে লেখা সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও নথিতে কাবিননামাটির সময়কাল ১৯২৩ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।কিন্তু কাবিননামার নিচের অংশে থাকা হিজরি সালের উল্লেখ দেখে মুমিত আল রশিদের ধারণা, দলিলটি আরও প্রায় ১০০ বছর আগের।জাতীয় জাদুঘরের দেওয়া তিনটি শর্তসহ কাবিননামার বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে হিজরি সালের উল্লেখ মিলিয়ে দেখেছেন মুমিত আল রশিদ।