লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি সরাসরি শেয়ারবাজারে আসতে পারবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা হলে বড় কোম্পানিগুলো এখন থেকে সহজে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি জানান, সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য মাত্র একবার নিরীক্ষা করলেই চলবে।

শনিবার চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

মাসুদ খান বলেন, ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তারা অর্থবাজার ও পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করেন। তবে ব্যবসায়ের টেকসই উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা অনেক বেশি কার্যকর। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা থাকার কারণে অনেকেই অর্থবাজার বা ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না এবং ব্যবসায়ের টেকসই প্রসারও বাধাগ্রস্ত হয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করপোরেট করহারে ছাড়, সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়া এবং কৌশলগত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ নানা ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশের গড় লেনদেন বাজার মূলধনের শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। এই গড় লেনদেনকে যদি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা যায়, তবে তা শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংলাপে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। এছাড়া তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মকানুনের জটিলতায়ও পড়তে হয়। তিনি দাবি করেন, ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়া এবং লোকসান হলে না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। পুঁজিবাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাজারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পৃক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রয়োজন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে পঙ্গু হয়ে আছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারের করসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে বিএসইসি ও এনবিআরের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার বিএসইসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানান চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি মো. জামাল উদ্দিন, সিএসইর এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন সালেহ জহুর, বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, মোদাচ্ছের এ সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানির মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী, পিডব্লিউসির সহযোগী পরিচালক (ডিজিটাল রূপান্তর) শাদাব মাহমুদ, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী এবং আইআইএবির সভাপতি এম নুরুল আলম। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, এ এস এম ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান, সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা

৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি সরাসরি শেয়ারবাজারে আসতে পারবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা হলে বড় কোম্পানিগুলো এখন থেকে সহজে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি জানান, সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য মাত্র একবার নিরীক্ষা করলেই চলবে।

শনিবার চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

মাসুদ খান বলেন, ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তারা অর্থবাজার ও পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করেন। তবে ব্যবসায়ের টেকসই উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা অনেক বেশি কার্যকর। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা থাকার কারণে অনেকেই অর্থবাজার বা ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না এবং ব্যবসায়ের টেকসই প্রসারও বাধাগ্রস্ত হয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করপোরেট করহারে ছাড়, সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়া এবং কৌশলগত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ নানা ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশের গড় লেনদেন বাজার মূলধনের শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। এই গড় লেনদেনকে যদি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা যায়, তবে তা শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংলাপে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। এছাড়া তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মকানুনের জটিলতায়ও পড়তে হয়। তিনি দাবি করেন, ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়া এবং লোকসান হলে না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। পুঁজিবাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাজারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পৃক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রয়োজন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে পঙ্গু হয়ে আছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারের করসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে বিএসইসি ও এনবিআরের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার বিএসইসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানান চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি মো. জামাল উদ্দিন, সিএসইর এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন সালেহ জহুর, বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, মোদাচ্ছের এ সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানির মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী, পিডব্লিউসির সহযোগী পরিচালক (ডিজিটাল রূপান্তর) শাদাব মাহমুদ, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী এবং আইআইএবির সভাপতি এম নুরুল আলম। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, এ এস এম ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।