লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতি ফেরাতে পাশে দাঁড়ালেন চিত্রনায়ক আলমগীর

যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার এক দিন পরই মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান চিত্রনায়ক আলমগীর। নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লিটন এরশাদ জানান, আলমগীর সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। চলচ্চিত্রের বাইরেও দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে এই দুই তারকার মধ্যে। আড্ডায় তাঁরা স্বাস্থ্যগত বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি পুরোনো অনেক স্মৃতি নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চন অনেক কিছুই মনে করতে পারছেন না, তাই আলমগীর ভাই তাঁকে পুরোনো স্মৃতি মনে করানোর চেষ্টা করেছেন এবং মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন।

গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতালে ও নিজের মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে তাঁর চিকিৎসা চলেছে। আগস্ট মাসে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হলেও ঝুঁকির কারণে টিউমারের পুরোটা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়েছে।

চিকিৎসার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তাঁকে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। এরপর দুই ধাপে তিন মাস করে ওরাল থেরাপি চলেছে। পারিবারিক সূত্রমতে, ১২ সপ্তাহে প্রায় ৬০টিরও বেশি কেমোথেরাপি এবং সব মিলিয়ে প্রায় শ খানেক কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে।

লিটন এরশাদ জানান, দেড় বছরের বেশি সময় বিদেশে থাকায় ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হওয়ার পর তাঁর ইচ্ছাতেই তাঁকে দেশে আনা হয়েছে। যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল এখনো সেখানেই রয়েছে, তবে তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি, যা ইতিবাচক।

বর্তমানে ইলিয়াস কাঞ্চন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও তাতে জড়তা রয়েছে। পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও তাঁকে কষ্ট করতে হয়। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটি আগের মতো নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ: হারমোনিয়াম পেলেন অনুশ্রী, রাকিবের স্বপ্নপূরণ

ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতি ফেরাতে পাশে দাঁড়ালেন চিত্রনায়ক আলমগীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার এক দিন পরই মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান চিত্রনায়ক আলমগীর। নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লিটন এরশাদ জানান, আলমগীর সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। চলচ্চিত্রের বাইরেও দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে এই দুই তারকার মধ্যে। আড্ডায় তাঁরা স্বাস্থ্যগত বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি পুরোনো অনেক স্মৃতি নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চন অনেক কিছুই মনে করতে পারছেন না, তাই আলমগীর ভাই তাঁকে পুরোনো স্মৃতি মনে করানোর চেষ্টা করেছেন এবং মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন।

গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতালে ও নিজের মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে তাঁর চিকিৎসা চলেছে। আগস্ট মাসে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হলেও ঝুঁকির কারণে টিউমারের পুরোটা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়েছে।

চিকিৎসার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তাঁকে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। এরপর দুই ধাপে তিন মাস করে ওরাল থেরাপি চলেছে। পারিবারিক সূত্রমতে, ১২ সপ্তাহে প্রায় ৬০টিরও বেশি কেমোথেরাপি এবং সব মিলিয়ে প্রায় শ খানেক কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে।

লিটন এরশাদ জানান, দেড় বছরের বেশি সময় বিদেশে থাকায় ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হওয়ার পর তাঁর ইচ্ছাতেই তাঁকে দেশে আনা হয়েছে। যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল এখনো সেখানেই রয়েছে, তবে তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি, যা ইতিবাচক।

বর্তমানে ইলিয়াস কাঞ্চন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও তাতে জড়তা রয়েছে। পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও তাঁকে কষ্ট করতে হয়। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটি আগের মতো নেই।