লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দাম, দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে পিষ্ট হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। দৈনন্দিন খাদ্যের চাহিদা মেটানো এখন অনেকের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকার কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছের দামও বেশ চড়া; ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচামরিচের দামে। আমদানি বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫০ টাকা কমে কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম এখনো চড়া। অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বেগুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারের এই লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, একবার দাম বাড়লে তা আর কমছে না। মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের মুরগি বিক্রেতা রাব্বি মিয়া বলেন, ‘বাজারে মুরগির চাহিদা অনুসারে সরবরাহ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দামে তেমন ওঠানামা নেই। প্রতি কেজি ২০০ টাকায় ব্রয়লার এবং ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগি বিক্রি করছি।’ অন্যদিকে মাছ বিক্রেতা ইমদাদ হোসেন জানান, মাছের দাম বাড়ার কারণে তাদের পুঁজিও বেশি লাগছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংস ও ডিমের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় পুষ্টির চাহিদা মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। চরম এই অস্বস্তি থেকে স্বস্তি পেতে তারা বাজার তদারকি ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিয়া-রাশিয়া নতুন সমঝোতা: সামরিক ঘাঁটির কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দাম, দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে পিষ্ট হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। দৈনন্দিন খাদ্যের চাহিদা মেটানো এখন অনেকের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকার কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছের দামও বেশ চড়া; ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচামরিচের দামে। আমদানি বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫০ টাকা কমে কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম এখনো চড়া। অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বেগুন ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারের এই লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, একবার দাম বাড়লে তা আর কমছে না। মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের মুরগি বিক্রেতা রাব্বি মিয়া বলেন, ‘বাজারে মুরগির চাহিদা অনুসারে সরবরাহ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দামে তেমন ওঠানামা নেই। প্রতি কেজি ২০০ টাকায় ব্রয়লার এবং ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগি বিক্রি করছি।’ অন্যদিকে মাছ বিক্রেতা ইমদাদ হোসেন জানান, মাছের দাম বাড়ার কারণে তাদের পুঁজিও বেশি লাগছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংস ও ডিমের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় পুষ্টির চাহিদা মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। চরম এই অস্বস্তি থেকে স্বস্তি পেতে তারা বাজার তদারকি ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।