লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বাজার হারাচ্ছে চীন, সুযোগ নিতে পারছে না বাংলাদেশ

চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে চীন প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রপ্তানি হারিয়েছে। তবে চীনের এই হারানো বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো সেখানে রপ্তানি বাড়িয়ে এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি মোট ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমলেও এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতে চীনকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হওয়া বাংলাদেশ জুন শেষেও সেই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তবে গত বছর এই বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।

চীনের ছেড়ে দেওয়া ক্রয়াদেশগুলো বাংলাদেশে না আসার পেছনে মূলত কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড ফাইবারের পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন বা ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ পোশাকের ক্রয়াদেশেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এ বিষয়ে বলেন, তুলাবিহীন বা নন-কটন পোশাকে বাংলাদেশের দক্ষতা কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ নয়। তা ছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া যেখানে মাত্র এক মাসের লিড টাইমে পণ্য সরবরাহ করতে পারে, সেখানে দুর্বল লজিস্টিকস ও সোর্সিংয়ের কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

করোনা মহামারির আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে চীনের বাজারে পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৫৭৩ কোটি ডলার) চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ২১৬ কোটি ডলার কম। চীনের এই হারানো বাজারের বড় অংশই গেছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার দখলে। বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনাম ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৭৮৫ কোটি ডলার, ইন্দোনেশিয়া ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২৩৩ কোটি ডলার এবং কম্বোডিয়া ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও Honduras থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমেছে।

তবে মার্কিন শুল্ক নীতির নতুন কিছু পরিবর্তনের কারণে সামনে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ দেখছেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে সব দেশের ওপর সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে। এরপর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে ভিয়েতনাম, চীন ও তুরস্কের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ এবং বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকো, হন্ডুরাস ও শ্রীলঙ্কার ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে ভিয়েতনাম বা চীনের চেয়ে আড়াই শতাংশ শুল্ক-সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শোভন ইসলাম বলেন, আড়াই শতাংশ শুল্ক-সুবিধার কারণে প্রথমার্ধে খারাপ করলেও সামনে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তারা ভিয়েতনাম থেকে স্থানান্তরিত দুটি বড় মার্কিন ক্রয়াদেশ পেয়েছেন এবং অন্যরাও এমন আদেশ পেতে পারেন বলে আশা করছেন। তবে তিনি দেশের চলমান জ্বালানিসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সহনীয় না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিদেশি ক্রেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

আইন অনুযায়ী ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক আরোপ করা যায়, যার মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে।জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে গত মাসে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে বাজার হারাচ্ছে চীন, সুযোগ নিতে পারছে না বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে চীন প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রপ্তানি হারিয়েছে। তবে চীনের এই হারানো বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো সেখানে রপ্তানি বাড়িয়ে এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি মোট ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমলেও এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতে চীনকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হওয়া বাংলাদেশ জুন শেষেও সেই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তবে গত বছর এই বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।

চীনের ছেড়ে দেওয়া ক্রয়াদেশগুলো বাংলাদেশে না আসার পেছনে মূলত কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড ফাইবারের পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন বা ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ পোশাকের ক্রয়াদেশেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এ বিষয়ে বলেন, তুলাবিহীন বা নন-কটন পোশাকে বাংলাদেশের দক্ষতা কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ নয়। তা ছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া যেখানে মাত্র এক মাসের লিড টাইমে পণ্য সরবরাহ করতে পারে, সেখানে দুর্বল লজিস্টিকস ও সোর্সিংয়ের কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

করোনা মহামারির আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে চীনের বাজারে পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৫৭৩ কোটি ডলার) চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ২১৬ কোটি ডলার কম। চীনের এই হারানো বাজারের বড় অংশই গেছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার দখলে। বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনাম ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৭৮৫ কোটি ডলার, ইন্দোনেশিয়া ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২৩৩ কোটি ডলার এবং কম্বোডিয়া ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও Honduras থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমেছে।

তবে মার্কিন শুল্ক নীতির নতুন কিছু পরিবর্তনের কারণে সামনে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ দেখছেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে সব দেশের ওপর সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে। এরপর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে ভিয়েতনাম, চীন ও তুরস্কের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ এবং বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মেক্সিকো, হন্ডুরাস ও শ্রীলঙ্কার ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে ভিয়েতনাম বা চীনের চেয়ে আড়াই শতাংশ শুল্ক-সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শোভন ইসলাম বলেন, আড়াই শতাংশ শুল্ক-সুবিধার কারণে প্রথমার্ধে খারাপ করলেও সামনে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তারা ভিয়েতনাম থেকে স্থানান্তরিত দুটি বড় মার্কিন ক্রয়াদেশ পেয়েছেন এবং অন্যরাও এমন আদেশ পেতে পারেন বলে আশা করছেন। তবে তিনি দেশের চলমান জ্বালানিসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সহনীয় না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিদেশি ক্রেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

আইন অনুযায়ী ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক আরোপ করা যায়, যার মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে।জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে গত মাসে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।