লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খলিফা হিসেবে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ

শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায়ে যেভাবে খলিফা ওমরের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছিল, তাতেই রয়েছে এই সমস্যার সর্বোৎকৃষ্ট সমাধান। ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) কোনো বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেননি এবং নিজের গোত্রের লোকদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেননি। উত্তরসূরি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের বর্ষীয়ান সদস্য আবদুর রহমান ইবনে আওফ, উসমান ইবনে আফফান, আলি ইবনে আবু তালেব ও তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর মতো বিশিষ্ট সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। তাদের কাছে ওমরের যোগ্যতা, মন-মেজাজ ও স্বভাব বিষয়ে মতামত জানতে চেয়েছিলেন। অনেকেই ওমরের কঠোর স্বভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। খলিফা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইসলামের সুরক্ষার জন্যই তার এই কঠোরতা এবং দায়িত্ব কাঁধে এলে তিনি ভারসাম্য খুঁজে নেবেন। এরপর উপদেষ্টাদের অনুমোদনে খলিফার উত্তরসূরি হিসেবে ওমর (রা.)-কে মনোনীত করা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য খলিফা একটি লিখিত সনদ তৈরি করেন, যা উসমান ইবনে আফফান পাঠ করে সবাইকে শোনান।

পরবর্তীকালে দুই খ্যাতনামা গবেষক এ ঘটনার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ ‘ইজালাতুল খাফা’ গ্রন্থে এ ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতিকে ‘ইস্তিখলাফ’ বলেছেন। তার বিশ্লেষণে, এটি কোনো বংশগত উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়; বরং রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে বিদায়ী শাসকের পক্ষ থেকে যোগ্যতম উত্তরসূরিকে মনোনয়নের গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া। একই দৃষ্টিভঙ্গি শিবলী নোমানীও ‘আল ফারুক’ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। তার মতে, ওমর (রা.)-এর মনোনয়ন কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল না; বরং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনৈতিক পদক্ষেপ।

উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের পর মসজিদে নববিতে সাধারণ বাইয়াত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ দলে দলে এসে কোনো সামরিক শক্তিপ্রদর্শন, বলপ্রয়োগ বা মৌখিক হুমকি ছাড়াই ওমরকে খলিফা হিসেবে মেনে নেন। ওমর (রা.) জানতেন, সাধারণ মানুষের আনুগত্য ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন। এই বাইয়াত ছিল শাসক ও জনগণের মধ্যে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এক অবিচ্ছেদ্য চুক্তি। খলিফার কঠোরতা নিয়ে নারীদের মনে দ্বিধা ছিল, কিন্তু ওমর (রা.) তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দুর্বল ও সাধারণ মানুষের জন্য তার হৃদয় থাকবে দয়ার্দ্র, আর অত্যাচার ও সীমা অতিক্রম করলে তিনি হবেন কঠোর।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মিম্বারে দাঁড়িয়ে ওমর (রা.) যে ভাষণ দেন, তা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি পূর্ণাঙ্গ শাসননীতির ঘোষণাপত্র। তিনি ঘোষণা করেন, তার কঠোরতা কোনো নিরপরাধ বা দুর্বল মানুষের প্রতি নয়, বরং তা শুধু জালেম ও সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। তিনি অঙ্গীকার করেন, বায়তুল মাল থেকে অন্যায়ভাবে একটি দিরহামও গ্রহণ করবেন না এবং জনগণের ন্যায্য প্রাপ্য যথাসময়ে প্রদান করবেন। খলিফা নিজেকে ‘শাসক’ বা ‘প্রভু’ পরিচয়ের বদলে জনগণের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ওয়াদা করেন। ম্যাক্স ওয়েবারের রাষ্ট্রচিন্তার বিপরীতে ওমর (রা.) এখানে দায়িত্ব ও জবাবদিহির রাজনীতি উপস্থাপন করেন।

তিনি বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন এবং সাম্রাজ্যকে মেসোপটেমিয়া, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর ও পারস্যের মতো প্রধান প্রদেশে ভাগ করেন। প্রতিটি প্রদেশে গভর্নর (ওয়ালি), রাজস্ব কর্মকর্তা (আমিলুল খারাজ), পুলিশ প্রধান (সাহিবুস শুরতা) ও কাজী নিয়োগ করা হয়। শাহ ওয়ালিউল্লাহ এই ব্যবস্থাকে ‘ইনতিজামে মুদুন’ বা নাগরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বলেছেন। শিবলী নোমানীর মতে, এর মূল ভিত্তি ছিল জবাবদিহি; প্রতিবছর হজ মৌসুমে সব গভর্নরকে মক্কায় উপস্থিত হয়ে জনগণের অভিযোগের জবাব দিতে হতো। তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করেন। বসরার কাজী আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর উদ্দেশে প্রেরিত তার নির্দেশনামা ‘ফারুকী জুডিশিয়াল কোড’ নামে পরিচিত, যা আধুনিক আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ওমর (রা.) বিজিত ভূমি সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন না করে রাষ্ট্রের যৌথ মালিকানায় (ফায়) রাখেন এবং বিশাল রাজস্ব পরিচালনার জন্য ‘দেওয়ান’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা শাহ ওয়ালিউল্লাহর মতে আধুনিক বাজেট ও পেনশন ব্যবস্থার প্রাচীনতম রূপ। হিজরি ১৮ সালের দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে (আমুর রামাদাহ) তিনি রাজকোষ থেকে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন এবং চুরির হদ্দ শাস্তি স্থগিত রাখেন। তার বিখ্যাত উক্তি—ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি ক্ষুধায় মারা যায়, তবে তার জন্যও তিনি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির আশঙ্কা করেন—প্রমাণ করে যে তার রাষ্ট্রচিন্তায় শাসকের দায়িত্ব ছিল সমগ্র সমাজ ও জীবজগতের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

৩. সত্যের স্বার্থে ভুল রায় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের যুদ্ধকবলিত জনজীবন: বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এল এক ভিন্ন চিত্র

খলিফা হিসেবে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায়ে যেভাবে খলিফা ওমরের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছিল, তাতেই রয়েছে এই সমস্যার সর্বোৎকৃষ্ট সমাধান। ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) কোনো বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেননি এবং নিজের গোত্রের লোকদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেননি। উত্তরসূরি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের বর্ষীয়ান সদস্য আবদুর রহমান ইবনে আওফ, উসমান ইবনে আফফান, আলি ইবনে আবু তালেব ও তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর মতো বিশিষ্ট সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। তাদের কাছে ওমরের যোগ্যতা, মন-মেজাজ ও স্বভাব বিষয়ে মতামত জানতে চেয়েছিলেন। অনেকেই ওমরের কঠোর স্বভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। খলিফা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইসলামের সুরক্ষার জন্যই তার এই কঠোরতা এবং দায়িত্ব কাঁধে এলে তিনি ভারসাম্য খুঁজে নেবেন। এরপর উপদেষ্টাদের অনুমোদনে খলিফার উত্তরসূরি হিসেবে ওমর (রা.)-কে মনোনীত করা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য খলিফা একটি লিখিত সনদ তৈরি করেন, যা উসমান ইবনে আফফান পাঠ করে সবাইকে শোনান।

পরবর্তীকালে দুই খ্যাতনামা গবেষক এ ঘটনার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ ‘ইজালাতুল খাফা’ গ্রন্থে এ ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতিকে ‘ইস্তিখলাফ’ বলেছেন। তার বিশ্লেষণে, এটি কোনো বংশগত উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়; বরং রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে বিদায়ী শাসকের পক্ষ থেকে যোগ্যতম উত্তরসূরিকে মনোনয়নের গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া। একই দৃষ্টিভঙ্গি শিবলী নোমানীও ‘আল ফারুক’ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। তার মতে, ওমর (রা.)-এর মনোনয়ন কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল না; বরং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনৈতিক পদক্ষেপ।

উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের পর মসজিদে নববিতে সাধারণ বাইয়াত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ দলে দলে এসে কোনো সামরিক শক্তিপ্রদর্শন, বলপ্রয়োগ বা মৌখিক হুমকি ছাড়াই ওমরকে খলিফা হিসেবে মেনে নেন। ওমর (রা.) জানতেন, সাধারণ মানুষের আনুগত্য ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন। এই বাইয়াত ছিল শাসক ও জনগণের মধ্যে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এক অবিচ্ছেদ্য চুক্তি। খলিফার কঠোরতা নিয়ে নারীদের মনে দ্বিধা ছিল, কিন্তু ওমর (রা.) তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দুর্বল ও সাধারণ মানুষের জন্য তার হৃদয় থাকবে দয়ার্দ্র, আর অত্যাচার ও সীমা অতিক্রম করলে তিনি হবেন কঠোর।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মিম্বারে দাঁড়িয়ে ওমর (রা.) যে ভাষণ দেন, তা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি পূর্ণাঙ্গ শাসননীতির ঘোষণাপত্র। তিনি ঘোষণা করেন, তার কঠোরতা কোনো নিরপরাধ বা দুর্বল মানুষের প্রতি নয়, বরং তা শুধু জালেম ও সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। তিনি অঙ্গীকার করেন, বায়তুল মাল থেকে অন্যায়ভাবে একটি দিরহামও গ্রহণ করবেন না এবং জনগণের ন্যায্য প্রাপ্য যথাসময়ে প্রদান করবেন। খলিফা নিজেকে ‘শাসক’ বা ‘প্রভু’ পরিচয়ের বদলে জনগণের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ওয়াদা করেন। ম্যাক্স ওয়েবারের রাষ্ট্রচিন্তার বিপরীতে ওমর (রা.) এখানে দায়িত্ব ও জবাবদিহির রাজনীতি উপস্থাপন করেন।

তিনি বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন এবং সাম্রাজ্যকে মেসোপটেমিয়া, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর ও পারস্যের মতো প্রধান প্রদেশে ভাগ করেন। প্রতিটি প্রদেশে গভর্নর (ওয়ালি), রাজস্ব কর্মকর্তা (আমিলুল খারাজ), পুলিশ প্রধান (সাহিবুস শুরতা) ও কাজী নিয়োগ করা হয়। শাহ ওয়ালিউল্লাহ এই ব্যবস্থাকে ‘ইনতিজামে মুদুন’ বা নাগরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বলেছেন। শিবলী নোমানীর মতে, এর মূল ভিত্তি ছিল জবাবদিহি; প্রতিবছর হজ মৌসুমে সব গভর্নরকে মক্কায় উপস্থিত হয়ে জনগণের অভিযোগের জবাব দিতে হতো। তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করেন। বসরার কাজী আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর উদ্দেশে প্রেরিত তার নির্দেশনামা ‘ফারুকী জুডিশিয়াল কোড’ নামে পরিচিত, যা আধুনিক আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ওমর (রা.) বিজিত ভূমি সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন না করে রাষ্ট্রের যৌথ মালিকানায় (ফায়) রাখেন এবং বিশাল রাজস্ব পরিচালনার জন্য ‘দেওয়ান’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা শাহ ওয়ালিউল্লাহর মতে আধুনিক বাজেট ও পেনশন ব্যবস্থার প্রাচীনতম রূপ। হিজরি ১৮ সালের দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে (আমুর রামাদাহ) তিনি রাজকোষ থেকে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন এবং চুরির হদ্দ শাস্তি স্থগিত রাখেন। তার বিখ্যাত উক্তি—ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি ক্ষুধায় মারা যায়, তবে তার জন্যও তিনি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির আশঙ্কা করেন—প্রমাণ করে যে তার রাষ্ট্রচিন্তায় শাসকের দায়িত্ব ছিল সমগ্র সমাজ ও জীবজগতের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

৩. সত্যের স্বার্থে ভুল রায় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।