লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিসওয়াক করে নামাজ পড়ার ফজিলত ও সুন্নত পদ্ধতি

ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) সবসময় পবিত্রতা বজায় রাখতেন এবং দুর্গন্ধের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতেন। মুখের পরিচ্ছন্নতা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি রাতে ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মিসওয়াক করতেন, যাতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ঘুমের জড়তা কাটিয়ে কর্মস্পৃহা ফিরে পাওয়া যায়।

মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যখনই জিবরাইল (আ.) আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এতে আমি আশঙ্কাবোধ করলাম যে আমি আমার মুখের সম্মুখ দিক ক্ষয় করে দেব।' (মুসনাদ আহমদ : ২২২৬৯)। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগেই মিসওয়াক করতেন (আবু দাউদ, মিশকাত : ৩৫২)।

মিসওয়াক মানুষকে সচেতন ও কর্মোদ্যম করে তোলে। সহিহ বোখারি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী (সা.) রাতে নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠলে মিসওয়াক করতেন। এছাড়া মিসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'মিসওয়াকের পর দুই রাকাত নামাজ মিসওয়াকের আগের দুই রাকাতের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি উত্তম।' (শুয়াবুল ইমান লিলবায়হাকি : ২৫২০)।

মিসওয়াক করার পদ্ধতি সম্পর্কেও হাদিসে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। আহমদ ইবনে আবদাহ (রহ.) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসুল (সা.)-কে মিসওয়াক করতে দেখেছেন, যেখানে মিসওয়াকের এক পাশ তাঁর জিহ্বার ওপর ছিল এবং তিনি 'আ' 'আ' শব্দ করছিলেন (নাসায়ি : ১/৩)।

আলেমদের মতে, মিসওয়াক হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব, তবে এটি আবশ্যক নয়। সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক নিয়ে ডান দিক থেকে শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে এবং জিহ্বায় লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা সুন্নত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈশ্বরদীতে চুরির সময় গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ৩

মিসওয়াক করে নামাজ পড়ার ফজিলত ও সুন্নত পদ্ধতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) সবসময় পবিত্রতা বজায় রাখতেন এবং দুর্গন্ধের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতেন। মুখের পরিচ্ছন্নতা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি রাতে ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মিসওয়াক করতেন, যাতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ঘুমের জড়তা কাটিয়ে কর্মস্পৃহা ফিরে পাওয়া যায়।

মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যখনই জিবরাইল (আ.) আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এতে আমি আশঙ্কাবোধ করলাম যে আমি আমার মুখের সম্মুখ দিক ক্ষয় করে দেব।' (মুসনাদ আহমদ : ২২২৬৯)। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগেই মিসওয়াক করতেন (আবু দাউদ, মিশকাত : ৩৫২)।

মিসওয়াক মানুষকে সচেতন ও কর্মোদ্যম করে তোলে। সহিহ বোখারি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী (সা.) রাতে নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠলে মিসওয়াক করতেন। এছাড়া মিসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'মিসওয়াকের পর দুই রাকাত নামাজ মিসওয়াকের আগের দুই রাকাতের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি উত্তম।' (শুয়াবুল ইমান লিলবায়হাকি : ২৫২০)।

মিসওয়াক করার পদ্ধতি সম্পর্কেও হাদিসে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। আহমদ ইবনে আবদাহ (রহ.) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসুল (সা.)-কে মিসওয়াক করতে দেখেছেন, যেখানে মিসওয়াকের এক পাশ তাঁর জিহ্বার ওপর ছিল এবং তিনি 'আ' 'আ' শব্দ করছিলেন (নাসায়ি : ১/৩)।

আলেমদের মতে, মিসওয়াক হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব, তবে এটি আবশ্যক নয়। সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক নিয়ে ডান দিক থেকে শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে এবং জিহ্বায় লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা সুন্নত।