লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলে অভিভাবকদের হতাশা

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৬০৬ জন পাস করেছে এবং ৩৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এবারের গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা গত বছরের ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন, জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন এবং সুরমা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন।

দাখিল পরীক্ষার চিত্রটিও হতাশাজনক। উপজেলার সাতটি মাদ্রাসা থেকে ২৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে ১৪৮ জন। এই ক্ষেত্রে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গত বছরের ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশের তুলনায় কম। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, দাখিল পরীক্ষায় এবার কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অনাগ্রহী হওয়া, মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি, অভিভাবকদের তদারকির অভাব এবং কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মানকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা। দামোধরতপী গ্রামের অভিভাবক শাহিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা আগের মতো পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিভাবক তাছলিমা বেগম যোগ করেন, মোবাইল আসক্তি ও পড়াশোনার প্রতি অনীহা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকদের আরও আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে ফলাফল ভালো হতো।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকা একটি উপজেলার জন্য এই ফল খুব একটা খারাপ নয়। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে এবং প্রশাসন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে পড়াশোনার খরচ পাঠাতে ব্যবহার করা যাবে ব্যাংকের কার্ড

শান্তিগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলে অভিভাবকদের হতাশা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৬০৬ জন পাস করেছে এবং ৩৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এবারের গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা গত বছরের ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন, জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন এবং সুরমা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন।

দাখিল পরীক্ষার চিত্রটিও হতাশাজনক। উপজেলার সাতটি মাদ্রাসা থেকে ২৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে ১৪৮ জন। এই ক্ষেত্রে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গত বছরের ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশের তুলনায় কম। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, দাখিল পরীক্ষায় এবার কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অনাগ্রহী হওয়া, মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি, অভিভাবকদের তদারকির অভাব এবং কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মানকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা। দামোধরতপী গ্রামের অভিভাবক শাহিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা আগের মতো পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিভাবক তাছলিমা বেগম যোগ করেন, মোবাইল আসক্তি ও পড়াশোনার প্রতি অনীহা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকদের আরও আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে ফলাফল ভালো হতো।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকা একটি উপজেলার জন্য এই ফল খুব একটা খারাপ নয়। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে এবং প্রশাসন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।