লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের দক্ষতা ও সুযোগ নিশ্চিত করাই দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করা

একটি দেশের বর্তমানকে গতিশীল এবং ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরুণদের সৃজনশীলতা, সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মক্ষমতা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাজে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি মূলত তরুণদের ক্ষমতায়ন, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যুব দিবসের যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যের আলোকে সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তরুণরা একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস বেশি থাকে। সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে তারা অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে অসাধারণ অবদান রাখতে পারে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্টার্টআপের মতো ক্ষেত্রগুলোতে তরুণরা তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি তরুণদের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের দক্ষতার ঘাটতি অন্যতম সমস্যা। এছাড়া মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক বৈষম্য, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক চাপ অনেক তরুণের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ভুল তথ্যের প্রভাবও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই তরুণদের শুধু শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়, তাদের নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষাও দিতে হবে।

যুবসমাজের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। বর্তমান সময়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা। একজন তরুণ উদ্যোক্তা নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক।

সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পরিবেশ রক্ষা, রক্তদান, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তি তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে, তবে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন আসক্তি থেকে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। পরিশেষে, তরুণরা কোনো দেশের বোঝা নয়, বরং সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের সঠিক শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন

তরুণদের দক্ষতা ও সুযোগ নিশ্চিত করাই দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

একটি দেশের বর্তমানকে গতিশীল এবং ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরুণদের সৃজনশীলতা, সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মক্ষমতা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাজে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি মূলত তরুণদের ক্ষমতায়ন, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যুব দিবসের যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১২ আগস্টকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যের আলোকে সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তরুণরা একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস বেশি থাকে। সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে তারা অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে অসাধারণ অবদান রাখতে পারে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্টার্টআপের মতো ক্ষেত্রগুলোতে তরুণরা তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি তরুণদের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের দক্ষতার ঘাটতি অন্যতম সমস্যা। এছাড়া মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক বৈষম্য, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক চাপ অনেক তরুণের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ভুল তথ্যের প্রভাবও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই তরুণদের শুধু শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়, তাদের নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষাও দিতে হবে।

যুবসমাজের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। বর্তমান সময়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা। একজন তরুণ উদ্যোক্তা নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক।

সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পরিবেশ রক্ষা, রক্তদান, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তি তরুণদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে, তবে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন আসক্তি থেকে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। পরিশেষে, তরুণরা কোনো দেশের বোঝা নয়, বরং সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের সঠিক শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি।