লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের আস্থা ফেরাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। শেখ হাসিনার পলায়নের পর প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার পর, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে। একই দিনে আয়োজিত গণভোটে সাধারণ মানুষ সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষেও রায় দেয়। ফলে নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ছিল, কিন্তু নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের সময় দেখা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাদের মতে, আগে সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য দলের সদস্যরা এই শপথ নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে এই দীর্ঘসূত্রতা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে, তাই আস্থা ধরে রাখতে সরকারকে দ্রুত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর। কৃষক পর্যায়েও উৎপাদন খরচ বাড়ায় ভোক্তা ও কৃষকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্প ও নির্মাণ খাতেও স্থবিরতা বিরাজ করছে; হার্ডওয়্যার ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় কারখানাগুলোও চাহিদার অভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকিং খাতে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। শিল্পপতিরা বিনিয়োগে অনাগ্রহী হওয়ায় বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া সরকারি ঋণের চাপের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। উন্নয়ন ব্যয় ও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকিও সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। পতিত আওয়ামী লীগ সমর্থক গোষ্ঠী বা বিভিন্ন মহল থেকে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ফলাফল, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে। প্রশাসনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

জনগণের আস্থা ফেরাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। শেখ হাসিনার পলায়নের পর প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার পর, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে। একই দিনে আয়োজিত গণভোটে সাধারণ মানুষ সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষেও রায় দেয়। ফলে নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ছিল, কিন্তু নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের সময় দেখা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাদের মতে, আগে সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য দলের সদস্যরা এই শপথ নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে এই দীর্ঘসূত্রতা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে, তাই আস্থা ধরে রাখতে সরকারকে দ্রুত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর। কৃষক পর্যায়েও উৎপাদন খরচ বাড়ায় ভোক্তা ও কৃষকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্প ও নির্মাণ খাতেও স্থবিরতা বিরাজ করছে; হার্ডওয়্যার ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় কারখানাগুলোও চাহিদার অভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকিং খাতে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। শিল্পপতিরা বিনিয়োগে অনাগ্রহী হওয়ায় বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া সরকারি ঋণের চাপের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। উন্নয়ন ব্যয় ও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকিও সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। পতিত আওয়ামী লীগ সমর্থক গোষ্ঠী বা বিভিন্ন মহল থেকে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ফলাফল, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে। প্রশাসনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।