লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা সক্রিয়, অভিযোগ এমপি সেলিমের

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ জিয়া চত্বর থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় এবং নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন না হওয়ায় প্রশাসনের তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এমপি সেলিম তার পোস্টে সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের গাফিলতি, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও একসাথে একাধিক কাজ হাতে নেওয়ার বিষয়টিকে জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও তদারকির অভাবের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সড়কটির নির্মাণকাজের কারণে স্থানীয়দের নিত্যদিন তীব্র যানজট ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ওই সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ৭ দিনের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সেই সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্যমতে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে আছে। তারা সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে এবং সব প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সরকার পরিচালনায় এখন আরও কঠোর হওয়ার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনকে গতিশীল করতে হবে এবং সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সোমবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে তিনি সড়কটি নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, টেন্ডারের পর ফাইল আটকে থাকলে তিনি মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন, যার ফলে একদিনের মধ্যেই ফাইল ছাড় হয়। অনুমোদনের পর ঠিকাদার পাওয়া না গেলেও তিনি নিজে ঠিকাদার খুঁজে এনে কাজ শুরু করান এবং রামগঞ্জে এসে তিন থেকে চারবার কাজটি পরিদর্শন করেন। এছাড়া দ্রুত কাজ শেষ করতে তিনি উপজেলা নেতাদের ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তদারকির জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এত উদ্যোগের পরও সড়কের কাজ ধীরগতিতে চলায় তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, সড়কটির নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিনই তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি ও যানজট সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জয়

প্রশাসনে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা সক্রিয়, অভিযোগ এমপি সেলিমের

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ জিয়া চত্বর থেকে সোনাপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় এবং নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন না হওয়ায় প্রশাসনের তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এমপি সেলিম তার পোস্টে সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের গাফিলতি, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও একসাথে একাধিক কাজ হাতে নেওয়ার বিষয়টিকে জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও তদারকির অভাবের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সড়কটির নির্মাণকাজের কারণে স্থানীয়দের নিত্যদিন তীব্র যানজট ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ওই সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ৭ দিনের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সেই সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্যমতে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে আছে। তারা সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে এবং সব প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সরকার পরিচালনায় এখন আরও কঠোর হওয়ার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনকে গতিশীল করতে হবে এবং সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সোমবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে তিনি সড়কটি নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, টেন্ডারের পর ফাইল আটকে থাকলে তিনি মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন, যার ফলে একদিনের মধ্যেই ফাইল ছাড় হয়। অনুমোদনের পর ঠিকাদার পাওয়া না গেলেও তিনি নিজে ঠিকাদার খুঁজে এনে কাজ শুরু করান এবং রামগঞ্জে এসে তিন থেকে চারবার কাজটি পরিদর্শন করেন। এছাড়া দ্রুত কাজ শেষ করতে তিনি উপজেলা নেতাদের ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তদারকির জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এত উদ্যোগের পরও সড়কের কাজ ধীরগতিতে চলায় তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, সড়কটির নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিনই তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি ও যানজট সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।