লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৪ জেলার পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক গন্তব্য করার উদ্যোগ সরকারের

দেশের ৬৪টি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ইকো-ট্যুরিজম খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশীজনদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এক সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা এই তথ্য জানান। ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন এককভাবে সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই যাত্রায় সরকারি ও বেসরকারি সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে তথ্যের যে ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে নিয়মিতভাবে বেসরকারি অংশীজনদের সাথে বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে দেশের কয়েকটি গ্রামকে বিশেষ পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান আফরোজা খানম রীতা। এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম। এই গ্রামগুলোর মতোই দেশের সব জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা হবে।

সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, অতীতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। পর্যটন খাতের তথ্যের ঘাটতি মেটাতে ইতিমধ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ (টিএসএ) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এর পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়নের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ওড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ইকো-ট্যুরিজমের টেকসই বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি

৬৪ জেলার পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক গন্তব্য করার উদ্যোগ সরকারের

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ৬৪টি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ইকো-ট্যুরিজম খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশীজনদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এক সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা এই তথ্য জানান। ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন এককভাবে সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই যাত্রায় সরকারি ও বেসরকারি সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে তথ্যের যে ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে নিয়মিতভাবে বেসরকারি অংশীজনদের সাথে বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে দেশের কয়েকটি গ্রামকে বিশেষ পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান আফরোজা খানম রীতা। এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম। এই গ্রামগুলোর মতোই দেশের সব জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা হবে।

সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, অতীতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। পর্যটন খাতের তথ্যের ঘাটতি মেটাতে ইতিমধ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ (টিএসএ) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এর পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়নের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ওড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ইকো-ট্যুরিজমের টেকসই বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।