লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, মহাসড়ক অবরোধ করে চালকদের বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বুধবার গভীর রাত থেকে সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাটির চুলায় রান্নার চেষ্টা করছেন। পৈরতলা এলাকার বাসিন্দা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক হাসনা হেনা জানান, দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে তিনি হোটেল থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চালকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এ সময় সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হালিম জানান, চালকরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত এক বছর ধরে জেলায় প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত গ্যাস একেবারেই ছিল না। কুট্টাপাড়ার বাসিন্দা বশিরুল ইসলাম জানান, বিকেলে কিছু সময়ের জন্য গ্যাসের চাপ থাকলেও তা ছিল অত্যন্ত কম। কান্দিপাড়ার বাসিন্দা আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, সারা দিন চুলায় আগুন জ্বালাতে না পারায় তার পরিবারের সদস্যদের দোকান থেকে রুটি কিনে খেতে হয়েছে। এদিকে, গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শংকর দাস নামে এক যাত্রী জানান, সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত যেতে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ২৩ হাজার ১৭৮ জন আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন এবং দৈনিক গ্যাসের চাহিদা পাঁচ থেকে ছয় মিলিয়ন ঘনফুট। উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল হক জানান, এলএনজি রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমেছে। তবে এই সংকট কবে নাগাদ নিরসন হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

তাঁর অভিযোগ, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা; কিন্তু আজ তাঁকে ৭০ টাকা দিতে হয়েছে।

ক্ষুদ্র, কুটিরশিল্প, রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক গ্রাহক ১৬১ জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-সৌদি আরব সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে ৮৪টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, মহাসড়ক অবরোধ করে চালকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বুধবার গভীর রাত থেকে সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাটির চুলায় রান্নার চেষ্টা করছেন। পৈরতলা এলাকার বাসিন্দা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক হাসনা হেনা জানান, দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে তিনি হোটেল থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চালকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এ সময় সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হালিম জানান, চালকরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত এক বছর ধরে জেলায় প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত গ্যাস একেবারেই ছিল না। কুট্টাপাড়ার বাসিন্দা বশিরুল ইসলাম জানান, বিকেলে কিছু সময়ের জন্য গ্যাসের চাপ থাকলেও তা ছিল অত্যন্ত কম। কান্দিপাড়ার বাসিন্দা আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, সারা দিন চুলায় আগুন জ্বালাতে না পারায় তার পরিবারের সদস্যদের দোকান থেকে রুটি কিনে খেতে হয়েছে। এদিকে, গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শংকর দাস নামে এক যাত্রী জানান, সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত যেতে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ২৩ হাজার ১৭৮ জন আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন এবং দৈনিক গ্যাসের চাহিদা পাঁচ থেকে ছয় মিলিয়ন ঘনফুট। উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল হক জানান, এলএনজি রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমেছে। তবে এই সংকট কবে নাগাদ নিরসন হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

তাঁর অভিযোগ, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা; কিন্তু আজ তাঁকে ৭০ টাকা দিতে হয়েছে।

ক্ষুদ্র, কুটিরশিল্প, রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক গ্রাহক ১৬১ জন।