লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-সৌদি আরব সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে ৮৪টি

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে চলমান সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইটের পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সৌদি সফর শেষে দেশে ফেরার পর রাজধানীর বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ মার্চ থেকে এই নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে এবং বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। এছাড়া, বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রী নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা পাবেন। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী পরোক্ষ রুটে যাতায়াত করেন, সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে 'ফিফথ ফ্রিডম' ট্রাফিক অধিকার অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর মধ্যে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট অন্যতম। একইভাবে সৌদি আরবও চীনের দু'টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে।

মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক আরও বলেন, এই নতুন ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইউরোপের বাজারের সঙ্গে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সহজ করে তুলবে। তিনি পারস্পরিক কার্গো পরিবহনের এই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি অর্থনীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-সৌদি আরব সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে ৮৪টি

বাংলাদেশ-সৌদি আরব সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে ৮৪টি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে চলমান সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইটের পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সৌদি সফর শেষে দেশে ফেরার পর রাজধানীর বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ মার্চ থেকে এই নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে এবং বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। এছাড়া, বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রী নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা পাবেন। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী পরোক্ষ রুটে যাতায়াত করেন, সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে 'ফিফথ ফ্রিডম' ট্রাফিক অধিকার অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর মধ্যে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট অন্যতম। একইভাবে সৌদি আরবও চীনের দু'টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে।

মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক আরও বলেন, এই নতুন ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইউরোপের বাজারের সঙ্গে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সহজ করে তুলবে। তিনি পারস্পরিক কার্গো পরিবহনের এই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি অর্থনীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন।