লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে: জামায়াত

সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত কয়েক দিনে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রোববার থেকে দেশে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাসের তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুট। জামায়াত নেতার অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জ্বালানিসংকটের কারণে জনরোষ বাড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে, যা সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

নীলফামারী ও কুষ্টিয়ার বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়াকে সরকারের দায়িত্বহীনতা হিসেবে অভিহিত করেন। জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংকট কাটাতে তিনি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, শিল্প খাতে গ্যাস চুরি রোধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো এবং এনার্জি কনভার্শনের যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তেল পাচার রোধ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি অংশীদার আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া স্থলভাগের গ্যাস রিজার্ভার ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্শা সীমান্তে অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার

সরকারের অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে: জামায়াত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত কয়েক দিনে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রোববার থেকে দেশে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাসের তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুট। জামায়াত নেতার অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জ্বালানিসংকটের কারণে জনরোষ বাড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে, যা সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

নীলফামারী ও কুষ্টিয়ার বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়াকে সরকারের দায়িত্বহীনতা হিসেবে অভিহিত করেন। জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংকট কাটাতে তিনি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, শিল্প খাতে গ্যাস চুরি রোধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো এবং এনার্জি কনভার্শনের যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তেল পাচার রোধ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি অংশীদার আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া স্থলভাগের গ্যাস রিজার্ভার ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।