লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপান সফরের অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফরের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সর্বশেষ বুধবার ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে পররাষ্ট্র পর্যায়ের সপ্তম পরামর্শ সভায় (এফওসি) এই সফরের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরের বিষয়ে আগের তুলনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সফরের আগে অথবা পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর করতে পারেন। এর আগে গত ২৮শে জুন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সফরের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১লা জুলাই বাংলাদেশ সফরে এসে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে তাকে আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, তারেক রহমানের জাপান সফরের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তবে এখনো সফরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, দুই দেশের সুবিধাজনক সময়েই এই সফর নির্ধারিত হবে। বর্তমানে দেশের সাংবিধানিক কার্যক্রম, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নিয়ে ব্যস্ততা থাকায় সফরের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবারের পররাষ্ট্র পর্যায়ের পরামর্শ সভায়। উচ্চপর্যায়ের সফরের পাশাপাশি দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেছে। আলোচনার মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ)। এছাড়া বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি) উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং জাপানের মানবিক সহায়তা নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় ভ্যান নিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

জাপান সফরের অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফরের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সর্বশেষ বুধবার ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে পররাষ্ট্র পর্যায়ের সপ্তম পরামর্শ সভায় (এফওসি) এই সফরের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরের বিষয়ে আগের তুলনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সফরের আগে অথবা পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর করতে পারেন। এর আগে গত ২৮শে জুন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সফরের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১লা জুলাই বাংলাদেশ সফরে এসে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে তাকে আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, তারেক রহমানের জাপান সফরের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তবে এখনো সফরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, দুই দেশের সুবিধাজনক সময়েই এই সফর নির্ধারিত হবে। বর্তমানে দেশের সাংবিধানিক কার্যক্রম, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নিয়ে ব্যস্ততা থাকায় সফরের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবারের পররাষ্ট্র পর্যায়ের পরামর্শ সভায়। উচ্চপর্যায়ের সফরের পাশাপাশি দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেছে। আলোচনার মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ)। এছাড়া বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি) উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং জাপানের মানবিক সহায়তা নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।