লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে মধ্যরাতে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের ফেসবুক পোস্ট

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব নিজের পদ থেকে বিদায় নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি নতুন জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান আলোচনার মাঝেই তার এই পোস্টটি সামনে এলো।

ফেসবুক পোস্টের শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাকিব। তিনি উল্লেখ করেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের শীর্ষ ও সাবেক নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

রাকিব তার পোস্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে ঢাকার পাঁচটি কলেজ ও চারটি মহানগরের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম ও ঘামেই রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে।

নিজের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, প্রচণ্ড আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কারও নামে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবর গণমাধ্যমে আসেনি। এছাড়া, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন রাকিব।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাকিব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজপথে বীরোচিত ভূমিকা পালন করা ছিল রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম বড় সাফল্য। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত মব মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিংয়ের শিকার হয়েও তাদের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের ইঙ্গিত দিয়ে রাকিব লেখেন, তিনি এখন একটি নতুন জীবন শুরু করতে চান এবং নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভুলত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি সবার কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করেন। সবশেষে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীই মনে করছেন, এই বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্ব থেকে রাকিবের বিদায় নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে মধ্যরাতে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের ফেসবুক পোস্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব নিজের পদ থেকে বিদায় নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি নতুন জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান আলোচনার মাঝেই তার এই পোস্টটি সামনে এলো।

ফেসবুক পোস্টের শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাকিব। তিনি উল্লেখ করেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের শীর্ষ ও সাবেক নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

রাকিব তার পোস্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে ঢাকার পাঁচটি কলেজ ও চারটি মহানগরের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম ও ঘামেই রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে।

নিজের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, প্রচণ্ড আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কারও নামে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবর গণমাধ্যমে আসেনি। এছাড়া, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন রাকিব।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাকিব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজপথে বীরোচিত ভূমিকা পালন করা ছিল রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম বড় সাফল্য। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত মব মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিংয়ের শিকার হয়েও তাদের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের ইঙ্গিত দিয়ে রাকিব লেখেন, তিনি এখন একটি নতুন জীবন শুরু করতে চান এবং নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভুলত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি সবার কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করেন। সবশেষে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীই মনে করছেন, এই বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্ব থেকে রাকিবের বিদায় নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।