লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের একযোগে হামলা, আলোচনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

দক্ষিণ লেবানন ও সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় একযোগে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংঘটিত এই হামলায় সিরিয়ার কৃষিজমিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি লেবাননের একাধিক বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দুই দেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে টাইর জেলার ওয়াদি আদшит আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরে বোমাবর্ষণ করা হয়। সংবাদমাধ্যম আল-মানার জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আলি আল-তাহের এলাকায় একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে, সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুনেইত্রা এলাকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের আল-রাফিদ শহরের ফসলি জমিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এই সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর প্রধান শেখ নাইম কাসেম। তিনি এই ধরনের আলোচনার রূপরেখাকে মার্কিন-ইসরায়েলি শর্তের কাছে লেবাননের sovereignty বা সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। লেবানন সরকারকে এই ব্যর্থ ও অপমানজনক আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে নাইম কাসেম প্রশ্ন তোলেন, সাত দফা আলোচনার পর সরকার আসলে কী অর্জন করতে পেরেছে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তিটি এখনও কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের অস্ত্রসম্ভারকে নিশানা করলেও ইসরায়েলি চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (চলতি বছরের ২ মার্চ শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে) ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৫ জনে। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭৭ জনেরও বেশি মানুষ এবং প্রায় ১৫ লাখের বেশি বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের একযোগে হামলা, আলোচনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ লেবানন ও সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় একযোগে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংঘটিত এই হামলায় সিরিয়ার কৃষিজমিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি লেবাননের একাধিক বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দুই দেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে টাইর জেলার ওয়াদি আদшит আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরে বোমাবর্ষণ করা হয়। সংবাদমাধ্যম আল-মানার জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আলি আল-তাহের এলাকায় একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে, সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুনেইত্রা এলাকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের আল-রাফিদ শহরের ফসলি জমিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এই সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর প্রধান শেখ নাইম কাসেম। তিনি এই ধরনের আলোচনার রূপরেখাকে মার্কিন-ইসরায়েলি শর্তের কাছে লেবাননের sovereignty বা সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। লেবানন সরকারকে এই ব্যর্থ ও অপমানজনক আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে নাইম কাসেম প্রশ্ন তোলেন, সাত দফা আলোচনার পর সরকার আসলে কী অর্জন করতে পেরেছে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তিটি এখনও কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের অস্ত্রসম্ভারকে নিশানা করলেও ইসরায়েলি চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (চলতি বছরের ২ মার্চ শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে) ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৫ জনে। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭৭ জনেরও বেশি মানুষ এবং প্রায় ১৫ লাখের বেশি বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।