লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণে জরিপ চালিয়ে সেখানে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম ও ঠিকানাসহ এই তালিকা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের ৬ই জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের আদি ও প্রকৃত নকশা (ম্যাপ) অনুযায়ী এই সীমানা জরিপ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর লেকের সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ দখলদারদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে তা প্রতিবেদন আকারে পেশ করতে হবে।

কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখল ও দূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামের একটি সংগঠন হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর আদালত রুল জারির পাশাপাশি লেক জরিপ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। তবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করতে সুনির্দিষ্ট জরিপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জরিপ অধিদপ্তরের সহায়তা চেয়ে আসছিলেন।

এই জটিলতা দূর করতে গত বৃহস্পতিবার এইচআরপিবির পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আদালতে ওই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজমী।

শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, মূলত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে রাঙ্গামাটি জেলায় কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লেকের বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সেখানে লোকজন বসবাস করছে। এর ফলে লেকটি মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং অবৈধ দখলদাররা নিজেদের মালিকানা দাবি করায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই সীমানা নির্ধারণ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণে জরিপ চালিয়ে সেখানে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম ও ঠিকানাসহ এই তালিকা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের ৬ই জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের আদি ও প্রকৃত নকশা (ম্যাপ) অনুযায়ী এই সীমানা জরিপ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর লেকের সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ দখলদারদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে তা প্রতিবেদন আকারে পেশ করতে হবে।

কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখল ও দূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামের একটি সংগঠন হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর আদালত রুল জারির পাশাপাশি লেক জরিপ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। তবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করতে সুনির্দিষ্ট জরিপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জরিপ অধিদপ্তরের সহায়তা চেয়ে আসছিলেন।

এই জটিলতা দূর করতে গত বৃহস্পতিবার এইচআরপিবির পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আদালতে ওই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজমী।

শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, মূলত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে রাঙ্গামাটি জেলায় কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লেকের বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সেখানে লোকজন বসবাস করছে। এর ফলে লেকটি মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং অবৈধ দখলদাররা নিজেদের মালিকানা দাবি করায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই সীমানা নির্ধারণ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা জরুরি।