লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র নকশাল নির্মূল হয়েছে, তবে ‘বুদ্ধিজীবী নকশালদের’ নিয়ে সতর্ক মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন যে, কয়েক দশক ধরে চলা মাওবাদী বিদ্রোহ বা নকশাল আন্দোলন থেকে ভারত অনেকটাই মুক্ত হতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে তিনি এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘বুদ্ধিজীবী নকশালদের’ নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

মোদি বলেন, সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব কমলেও বুদ্ধিজীবী নকশালরা বর্তমানে সহিংসতা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে। তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ‘আরবান নকশাল’ শব্দটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে তিনি মূলত সেইসব শিক্ষাবিদ, আন্দোলনকর্মী এবং সরকারের সমালোচকদের ইঙ্গিত করেছেন, যাদের তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু করে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে এই বক্তব্য দিলেন, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের তরুণদের একটি প্রতিবাদী আন্দোলন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। ওই আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটলেও, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি সেই বিক্ষোভের কোনো উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এআই প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের মতো তরুণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারত ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে পূর্ব ভারতের নকশালবাড়ি গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র বিদ্রোহে কয়েক দশক ধরে হাজারো বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তাকর্মী ও বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। মোদির দাবি, ২০১৪ সালে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সমন্বিত নীতির কারণে মাওবাদী সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বিধান ব্যবহার করে নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক এবং সমালোচকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ‘হারিকেন’ মন্তব্যের জবাবে যা বললেন আসিফ মাহমুদ

সশস্ত্র নকশাল নির্মূল হয়েছে, তবে ‘বুদ্ধিজীবী নকশালদের’ নিয়ে সতর্ক মোদি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন যে, কয়েক দশক ধরে চলা মাওবাদী বিদ্রোহ বা নকশাল আন্দোলন থেকে ভারত অনেকটাই মুক্ত হতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে তিনি এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘বুদ্ধিজীবী নকশালদের’ নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

মোদি বলেন, সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব কমলেও বুদ্ধিজীবী নকশালরা বর্তমানে সহিংসতা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে। তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ‘আরবান নকশাল’ শব্দটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে তিনি মূলত সেইসব শিক্ষাবিদ, আন্দোলনকর্মী এবং সরকারের সমালোচকদের ইঙ্গিত করেছেন, যাদের তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু করে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে এই বক্তব্য দিলেন, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের তরুণদের একটি প্রতিবাদী আন্দোলন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। ওই আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটলেও, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি সেই বিক্ষোভের কোনো উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এআই প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের মতো তরুণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারত ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে পূর্ব ভারতের নকশালবাড়ি গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র বিদ্রোহে কয়েক দশক ধরে হাজারো বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তাকর্মী ও বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। মোদির দাবি, ২০১৪ সালে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সমন্বিত নীতির কারণে মাওবাদী সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বিধান ব্যবহার করে নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক এবং সমালোচকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।