লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার পাঁচ বছর: আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতা ও তালেবানের দাবি

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করে তালেবান। কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ দুই দশকের মার্কিন উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তিতে রাজধানী কাবুলের সাবেক মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের সামনে সাঁজোয়া যান এবং নিজেদের সাদা-কালো পতাকা ও ব্যানার নিয়ে ব্যাপক কুচকাওয়াজ করেছে গোষ্ঠীটি। তারা এই দিনটিকে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপন করেছে। তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হক্কানি এক ভিডিও বার্তায় এই সময়কালকে ‘সাহস ও খোদায়ী সাহায্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই কথিত বিজয়ের আড়ালে গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তান ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ও মানবাধিকার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া লাখ লাখ শিশুর তীব্র অপুষ্টি, অর্থনীতির ধস এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ আফগান জনগোষ্ঠী বর্তমানে টিকে থাকার লড়াইয়ে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে।

এই বহুমুখী সংকটের বিপরীতে তালেবান প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। দুই দশকের দীর্ঘ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশজুড়ে বোমা হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ ও অবাধ যাতায়াতকে নিরাপদ করেছে। তাদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে মাদক নির্মূল কার্যক্রমকে। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ নেতার এক আদেশে আফিম বা পপি চাষ নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে মাদক উৎপাদন প্রায় ৯৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মাদকবিরোধী অর্জন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এছাড়া প্রশাসন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার দাবি করেছে, যার ফলে বার্ষিক কর আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সচল রাখতে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে খনিজ সম্পদ, গ্যাস পাইপলাইন, সৌর বিদ্যুৎ ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তালেবান প্রশাসন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

ক্ষমতার পাঁচ বছর: আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতা ও তালেবানের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করে তালেবান। কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ দুই দশকের মার্কিন উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তিতে রাজধানী কাবুলের সাবেক মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের সামনে সাঁজোয়া যান এবং নিজেদের সাদা-কালো পতাকা ও ব্যানার নিয়ে ব্যাপক কুচকাওয়াজ করেছে গোষ্ঠীটি। তারা এই দিনটিকে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপন করেছে। তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হক্কানি এক ভিডিও বার্তায় এই সময়কালকে ‘সাহস ও খোদায়ী সাহায্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই কথিত বিজয়ের আড়ালে গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তান ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ও মানবাধিকার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া লাখ লাখ শিশুর তীব্র অপুষ্টি, অর্থনীতির ধস এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ আফগান জনগোষ্ঠী বর্তমানে টিকে থাকার লড়াইয়ে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে।

এই বহুমুখী সংকটের বিপরীতে তালেবান প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। দুই দশকের দীর্ঘ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশজুড়ে বোমা হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ ও অবাধ যাতায়াতকে নিরাপদ করেছে। তাদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে মাদক নির্মূল কার্যক্রমকে। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ নেতার এক আদেশে আফিম বা পপি চাষ নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে মাদক উৎপাদন প্রায় ৯৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মাদকবিরোধী অর্জন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এছাড়া প্রশাসন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার দাবি করেছে, যার ফলে বার্ষিক কর আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সচল রাখতে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে খনিজ সম্পদ, গ্যাস পাইপলাইন, সৌর বিদ্যুৎ ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তালেবান প্রশাসন।