লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যাটোর গভীরে হামলার জন্য গোপন ড্রোন ঘাঁটি তৈরি করছে রাশিয়া

ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার লক্ষ্যে রাশিয়া গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে বলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো অন্তত ১০টি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করেছে, যেখান থেকে তাদের আধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা বিস্ফোরকবাহী আত্মঘাতী ড্রোন পরিচালনা করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাত শুরু হলে রাশিয়া এই প্রযুক্তি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করতে পারে। কিছু ঘাঁটি থেকে রাশিয়ার ড্রোন পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, পোল্যান্ডের মতো দেশে সশস্ত্র উসকানি বা ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যদিও রাশিয়ার সরাসরি এমন কোনো পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটটি তাদের মিত্রদেশগুলোর প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় প্রস্তুত এবং ড্রোনসহ যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে।

ফাঁস হওয়া নথি ও স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে টেলিগ্রাফ রাশিয়ার বেলারুশ ও ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে অন্তত ৫৯টি নতুন ড্রোন উৎক্ষেপণ রেল শনাক্ত করেছে। এগুলো প্রচলিত রানওয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ধরনের ডানাযুক্ত ড্রোন উড্ডয়নে ব্যবহৃত বিশেষ যান্ত্রিক গাইড ট্র্যাক। ড্রোনসেক নামক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০টি রেল তুলনামূলক দীর্ঘ, যা রাশিয়ার সর্বশেষ দীর্ঘপাল্লার ড্রোন উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক বিমানবন্দরকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, আবার কিছু প্ল্যাটফর্ম গ্রামীণ এলাকায় নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

রাশিয়া দ্রুত তাদের ইরানি শাহেদ ড্রোনের সংস্করণ উন্নত করছে। নতুন উচ্চগতির জেটচালিত গেরান-৪ ও গেরান-৫ ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং প্রায় ৯০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআর সতর্ক করেছে যে, রাশিয়া এসব ড্রোনে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করছে যা কিয়েভ রক্ষাকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

স্যাটেলাইট ছবিতে নতুন ঘাঁটিগুলোতে অত্যাধুনিক ড্রোনের উপস্থিতি এবং নির্মাণাধীন নতুন উৎক্ষেপণ রেলের চিত্র দেখা গেছে। টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, আলাবুগা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ রাশিয়ার বিভিন্ন কারখানা থেকে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে বছরে প্রায় ৬,০০০টি ড্রোন তৈরি হয়। ড্রোনসেকের প্রধান নির্বাহী মাইক মন্নিক মন্তব্য করেছেন যে, এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন একসঙ্গে অনেক বেশি ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করেছে, তেমনি তাদের ড্রোন প্রতিহত করাও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। শনাক্ত করা ১০টি ঘাঁটির মধ্যে অন্তত সাতটি সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে চালানো হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ন্যাটোর গভীরে হামলার জন্য গোপন ড্রোন ঘাঁটি তৈরি করছে রাশিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার লক্ষ্যে রাশিয়া গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে বলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো অন্তত ১০টি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করেছে, যেখান থেকে তাদের আধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা বিস্ফোরকবাহী আত্মঘাতী ড্রোন পরিচালনা করা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাত শুরু হলে রাশিয়া এই প্রযুক্তি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করতে পারে। কিছু ঘাঁটি থেকে রাশিয়ার ড্রোন পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, পোল্যান্ডের মতো দেশে সশস্ত্র উসকানি বা ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যদিও রাশিয়ার সরাসরি এমন কোনো পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটটি তাদের মিত্রদেশগুলোর প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় প্রস্তুত এবং ড্রোনসহ যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে।

ফাঁস হওয়া নথি ও স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে টেলিগ্রাফ রাশিয়ার বেলারুশ ও ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে অন্তত ৫৯টি নতুন ড্রোন উৎক্ষেপণ রেল শনাক্ত করেছে। এগুলো প্রচলিত রানওয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ধরনের ডানাযুক্ত ড্রোন উড্ডয়নে ব্যবহৃত বিশেষ যান্ত্রিক গাইড ট্র্যাক। ড্রোনসেক নামক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০টি রেল তুলনামূলক দীর্ঘ, যা রাশিয়ার সর্বশেষ দীর্ঘপাল্লার ড্রোন উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক বিমানবন্দরকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, আবার কিছু প্ল্যাটফর্ম গ্রামীণ এলাকায় নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

রাশিয়া দ্রুত তাদের ইরানি শাহেদ ড্রোনের সংস্করণ উন্নত করছে। নতুন উচ্চগতির জেটচালিত গেরান-৪ ও গেরান-৫ ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং প্রায় ৯০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআর সতর্ক করেছে যে, রাশিয়া এসব ড্রোনে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করছে যা কিয়েভ রক্ষাকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

স্যাটেলাইট ছবিতে নতুন ঘাঁটিগুলোতে অত্যাধুনিক ড্রোনের উপস্থিতি এবং নির্মাণাধীন নতুন উৎক্ষেপণ রেলের চিত্র দেখা গেছে। টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, আলাবুগা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ রাশিয়ার বিভিন্ন কারখানা থেকে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে বছরে প্রায় ৬,০০০টি ড্রোন তৈরি হয়। ড্রোনসেকের প্রধান নির্বাহী মাইক মন্নিক মন্তব্য করেছেন যে, এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন একসঙ্গে অনেক বেশি ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করেছে, তেমনি তাদের ড্রোন প্রতিহত করাও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। শনাক্ত করা ১০টি ঘাঁটির মধ্যে অন্তত সাতটি সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে চালানো হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।