লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন

নোয়াখালী সদর উপজেলার বহুল আলোচিত তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় আদালত ছয়জন আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এই রায় প্রদান করেন। রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন একটি হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জেরে সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াসিম ও ইয়াছিনও মারা যান।

নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার রায় ঘোষণার সময় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার শুরু থেকেই অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

নোয়াখালীর ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালী সদর উপজেলার বহুল আলোচিত তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় আদালত ছয়জন আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এই রায় প্রদান করেন। রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন একটি হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জেরে সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াসিম ও ইয়াছিনও মারা যান।

নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার রায় ঘোষণার সময় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার শুরু থেকেই অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।