লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় ইসরায়েলের নিন্দা ৮ দেশের

গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে 'বোর্ড অব পিস'-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এই সমালোচনা করে।

দেশগুলো বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েলের এই অনমনীয় অবস্থান হামাসের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগও এতে ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে।

গত ৯ আগস্ট এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হামাস ‘প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্র’ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না। এর আগে গত মে মাসে বোর্ড অব পিসের প্রধান নিকোলায় ম্লাদেনভ এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে আইডিএফের সেনা প্রত্যাহার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল।

যৌথ বিবৃতিতে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, হামাসের এই পরিকল্পনা গ্রহণে সম্মতি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ এবং এটি নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ও ব্যবস্থাগুলো মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। নেতানিয়াহুর প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান, বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করা বা অসহযোগিতার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ‘সরাসরি ও সম্পূর্ণ দায়ী’ থাকবে। গাজার পরিস্থিতির অবনতি এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার ইসরায়েলের ওপরই বর্তাবে। গাজার মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই শান্তি পরিকল্পনা দ্রুত ও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দীর্ঘদিনের এই মতপার্থক্য গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্পকারখানায় আগামীকাল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

গাজায় শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় ইসরায়েলের নিন্দা ৮ দেশের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে 'বোর্ড অব পিস'-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এই সমালোচনা করে।

দেশগুলো বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েলের এই অনমনীয় অবস্থান হামাসের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগও এতে ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে।

গত ৯ আগস্ট এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হামাস ‘প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্র’ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না। এর আগে গত মে মাসে বোর্ড অব পিসের প্রধান নিকোলায় ম্লাদেনভ এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে আইডিএফের সেনা প্রত্যাহার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল।

যৌথ বিবৃতিতে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, হামাসের এই পরিকল্পনা গ্রহণে সম্মতি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ এবং এটি নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ও ব্যবস্থাগুলো মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। নেতানিয়াহুর প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান, বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করা বা অসহযোগিতার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ‘সরাসরি ও সম্পূর্ণ দায়ী’ থাকবে। গাজার পরিস্থিতির অবনতি এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার ইসরায়েলের ওপরই বর্তাবে। গাজার মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই শান্তি পরিকল্পনা দ্রুত ও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দীর্ঘদিনের এই মতপার্থক্য গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।