লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ মাসে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু খুন, উদ্বেগ মহিলা পরিষদের

দেশে বিগত সাত মাসে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এই উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দেশজুড়ে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ ও শিশুহত্যার প্রতিবাদে সোমবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় অনুরূপ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশের ১৪টি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য সংকলন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিহত ৩৪১ জনের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন কারণে বাকি হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে। সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য পাওয়া গেলে সহিংসতার এই প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরও বলেন, সমাজে সকলের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে বন্দি রাখা যাবে না। নিজেদের অধিকার আদায়ে নারীরা সব সময় সংগঠিত থাকবে এবং নারী নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৯১ জন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে নারী ও শিশুরা কোথাও নিরাপদ নয় এবং এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। প্রতিটি সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কর্মসূচিগুলোতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা অঙ্গীকার করেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি সরাসরি শেয়ারবাজারে আসতে পারবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

৭ মাসে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু খুন, উদ্বেগ মহিলা পরিষদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশে বিগত সাত মাসে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এই উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দেশজুড়ে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ ও শিশুহত্যার প্রতিবাদে সোমবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় অনুরূপ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশের ১৪টি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য সংকলন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিহত ৩৪১ জনের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন কারণে বাকি হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে। সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য পাওয়া গেলে সহিংসতার এই প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরও বলেন, সমাজে সকলের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে বন্দি রাখা যাবে না। নিজেদের অধিকার আদায়ে নারীরা সব সময় সংগঠিত থাকবে এবং নারী নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৯১ জন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে নারী ও শিশুরা কোথাও নিরাপদ নয় এবং এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। প্রতিটি সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কর্মসূচিগুলোতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা অঙ্গীকার করেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। মানববন্ধনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।