লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনের মিচেল স্ট্রিটে বাংলাদেশ দলের অলস সময় কাটানোর মুহূর্ত

ডারউইন সিটি সেন্টারের মিচেল স্ট্রিট সাধারণত রাতের বেলাতেই বেশি সরব থাকে, তবে দিনের বেলায় রাস্তাটি বেশ নীরব। আজ সেই নীরবতা কিছুটা ভেঙেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যদের পদচারণে। টিম হোটেল এবং সিরিজ কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের হোটেল কাছাকাছি হওয়ায় ডারউইনের এই রাস্তায় যেন এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও তানজিদ হাসানকে দেখা গেছে একসঙ্গে খেতে বের হতে। ছুটির আমেজে থাকা খেলোয়াড়রা ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে না চাইলেও, দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবাল জানিয়েছেন সন্ধ্যায় কথা বলবেন। চতুর্থ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যাওয়ায় ডারউইন টেস্টের পঞ্চম দিনটি বাংলাদেশ দলের জন্য ছিল পুরোপুরি ছুটির দিন। আগামীকাল সকালে ম্যাকাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবে দল।

আজকের দিনটি ছিল মূলত বিশ্রামের, তবে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দলের সম্মানে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশন একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছে। এর বাইরে খেলোয়াড়রা মিচেল স্ট্রিটে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন। তাদের হাঁটার পথে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলার সুযোগও ছিল। এ সময় পেসার তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ এবং কোচ ফিল সিমন্সকেও রাস্তায় দেখা গেছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল স্থানীয়দের কাছ থেকে ব্যাপক সম্মান ও ভালোবাসা পাচ্ছে। মিচেল স্ট্রিটে হাঁটার সময় এক অস্ট্রেলিয়ান পথচারী বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে পরের টেস্টের জন্য শুভকামনা জানান। গতকাল ম্যাচ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজও জানিয়েছিলেন, হোটেলের এক বৃদ্ধা তাকে প্রশংসা করেছেন, যা তাকে বেশ অবাক করেছে।

মিচেল স্ট্রিটের ইস্তাম্বুল রেস্টুরেন্টের মালিক গ্রিসের নাগরিক নিক বাংলাদেশের জয়ে খুশি। অবশ্য বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর আগ্রহের আরেকটি কারণ; ইস্তাম্বুল রেস্টুরেন্টে দুজন বাংলাদেশিও কাজ করেন। ৩৫ বছর ধরে ডারউইনে বসবাস করা নিকের প্রত্যাশা ছিল, এত বছর পর টেস্ট ম্যাচ হওয়ায় প্রচুর দর্শক আসবে এবং তার ব্যবসা ভালো হবে, কিন্তু সেটি পূরণ হয়নি। তবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের রেস্টুরেন্টে আসা এবং তাদের পারফরম্যান্স তাকে মুগ্ধ করেছে। প্রথম ৩০ টেস্টে শূন্য জয়, সর্বশেষ ১০ টেস্টে চার—বদলে যাওয়ার এই গল্প বাংলাদেশের।

রেস্টুরেন্টে তাসকিনের সঙ্গে পেস বোলিং নিয়ে আলাপচারিতায় উঠে আসে ডারউইনের উইকেটে খেলার কঠিন পরিস্থিতির কথা। তাসকিন চোটের কারণে সিরিজে না থাকা নাহিদ রানার অভাবের কথা উল্লেখ করে জানান, এই উইকেটে নাহিদ ভালো করতে পারত। সব মিলিয়ে ডারউইনের অলস দুপুরটি যেন মারারা ওভালের ক্রিকেটের আনন্দ আর আড্ডার মিশেলে এক দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

ডারউইনের মিচেল স্ট্রিটে বাংলাদেশ দলের অলস সময় কাটানোর মুহূর্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইন সিটি সেন্টারের মিচেল স্ট্রিট সাধারণত রাতের বেলাতেই বেশি সরব থাকে, তবে দিনের বেলায় রাস্তাটি বেশ নীরব। আজ সেই নীরবতা কিছুটা ভেঙেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যদের পদচারণে। টিম হোটেল এবং সিরিজ কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের হোটেল কাছাকাছি হওয়ায় ডারউইনের এই রাস্তায় যেন এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও তানজিদ হাসানকে দেখা গেছে একসঙ্গে খেতে বের হতে। ছুটির আমেজে থাকা খেলোয়াড়রা ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে না চাইলেও, দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবাল জানিয়েছেন সন্ধ্যায় কথা বলবেন। চতুর্থ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যাওয়ায় ডারউইন টেস্টের পঞ্চম দিনটি বাংলাদেশ দলের জন্য ছিল পুরোপুরি ছুটির দিন। আগামীকাল সকালে ম্যাকাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবে দল।

আজকের দিনটি ছিল মূলত বিশ্রামের, তবে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দলের সম্মানে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশন একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছে। এর বাইরে খেলোয়াড়রা মিচেল স্ট্রিটে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন। তাদের হাঁটার পথে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলার সুযোগও ছিল। এ সময় পেসার তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ এবং কোচ ফিল সিমন্সকেও রাস্তায় দেখা গেছে।

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল স্থানীয়দের কাছ থেকে ব্যাপক সম্মান ও ভালোবাসা পাচ্ছে। মিচেল স্ট্রিটে হাঁটার সময় এক অস্ট্রেলিয়ান পথচারী বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে পরের টেস্টের জন্য শুভকামনা জানান। গতকাল ম্যাচ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজও জানিয়েছিলেন, হোটেলের এক বৃদ্ধা তাকে প্রশংসা করেছেন, যা তাকে বেশ অবাক করেছে।

মিচেল স্ট্রিটের ইস্তাম্বুল রেস্টুরেন্টের মালিক গ্রিসের নাগরিক নিক বাংলাদেশের জয়ে খুশি। অবশ্য বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর আগ্রহের আরেকটি কারণ; ইস্তাম্বুল রেস্টুরেন্টে দুজন বাংলাদেশিও কাজ করেন। ৩৫ বছর ধরে ডারউইনে বসবাস করা নিকের প্রত্যাশা ছিল, এত বছর পর টেস্ট ম্যাচ হওয়ায় প্রচুর দর্শক আসবে এবং তার ব্যবসা ভালো হবে, কিন্তু সেটি পূরণ হয়নি। তবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের রেস্টুরেন্টে আসা এবং তাদের পারফরম্যান্স তাকে মুগ্ধ করেছে। প্রথম ৩০ টেস্টে শূন্য জয়, সর্বশেষ ১০ টেস্টে চার—বদলে যাওয়ার এই গল্প বাংলাদেশের।

রেস্টুরেন্টে তাসকিনের সঙ্গে পেস বোলিং নিয়ে আলাপচারিতায় উঠে আসে ডারউইনের উইকেটে খেলার কঠিন পরিস্থিতির কথা। তাসকিন চোটের কারণে সিরিজে না থাকা নাহিদ রানার অভাবের কথা উল্লেখ করে জানান, এই উইকেটে নাহিদ ভালো করতে পারত। সব মিলিয়ে ডারউইনের অলস দুপুরটি যেন মারারা ওভালের ক্রিকেটের আনন্দ আর আড্ডার মিশেলে এক দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকল।