লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনে হারের পর এবার বড় জরিমানার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর এবার দ্বিগুণ ধাক্কা খেতে যাচ্ছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছে প্যাট কামিন্সের দল।

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৯০ ওভারের জায়গায় মাত্র ৮৬ ওভার বোলিং সম্পন্ন করতে পেরেছে। অর্থাৎ চার ওভার কম বল করেছে তারা। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার বল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সাধারণভাবে দিনে ৯০ ওভার সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকে।

নিয়ম ভাঙার কারণে প্রতি ওভারের ঘাটতির জন্য ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করার সুপারিশ করতে পারেন ম্যাচ রেফারি। অস্ট্রেলিয়ার একেকজন খেলোয়াড়ের প্রতি টেস্টের ম্যাচ ফি ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফলে চার ওভার কম করার কারণে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে। পুরো দলের ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।

জরিমানার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টও হারাতে পারে অস্ট্রেলিয়া। প্রতি ওভার কম করার জন্য একটি করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হলে চার ওভারের ঘাটতির কারণে তাদের ৪ পয়েন্ট হারাতে হতে পারে। বর্তমানে তারা পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশের কাছে হারের পর তাদের পয়েন্টের হার দাঁড়িয়েছে ৭৭.৭৮ শতাংশে। চার পয়েন্ট কাটা গেলে তাদের মোট পয়েন্ট কমলেও পয়েন্টের শতকরা হারে কোনো প্রভাব পড়বে না।

অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলও নির্ধারিত ওভার রেটের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। তবে আইসিসির একটি বিশেষ নিয়মের কারণে নাজমুল হোসেন শান্তর দল বড় শাস্তি থেকে বেঁচে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের কোনো ইনিংস যদি ৮০ ওভারের আগেই গুটিয়ে দেওয়া যায় কিংবা ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১৬০ ওভারের কম বোলিং করতে হয়, তবে ওভার রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করায় এই নিয়মের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করায় স্বাগতিকদের ওভার রেটের বিষয়টি নিয়মের আওতায় পড়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডারউইনের অতিরিক্ত গরম, উইকেট পতনের সংখ্যা এবং অন্যান্য যৌক্তিক বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন ম্যাচ রেফারি।

ওভার রেটের কারণে পয়েন্ট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের জন্য ৪ পয়েন্ট হারিয়েছিল তারা, যা শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা থেকে তাদের ছিটকে দিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

ডারউইনে হারের পর এবার বড় জরিমানার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর এবার দ্বিগুণ ধাক্কা খেতে যাচ্ছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছে প্যাট কামিন্সের দল।

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৯০ ওভারের জায়গায় মাত্র ৮৬ ওভার বোলিং সম্পন্ন করতে পেরেছে। অর্থাৎ চার ওভার কম বল করেছে তারা। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার বল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সাধারণভাবে দিনে ৯০ ওভার সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকে।

নিয়ম ভাঙার কারণে প্রতি ওভারের ঘাটতির জন্য ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করার সুপারিশ করতে পারেন ম্যাচ রেফারি। অস্ট্রেলিয়ার একেকজন খেলোয়াড়ের প্রতি টেস্টের ম্যাচ ফি ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফলে চার ওভার কম করার কারণে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে। পুরো দলের ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।

জরিমানার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টও হারাতে পারে অস্ট্রেলিয়া। প্রতি ওভার কম করার জন্য একটি করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হলে চার ওভারের ঘাটতির কারণে তাদের ৪ পয়েন্ট হারাতে হতে পারে। বর্তমানে তারা পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশের কাছে হারের পর তাদের পয়েন্টের হার দাঁড়িয়েছে ৭৭.৭৮ শতাংশে। চার পয়েন্ট কাটা গেলে তাদের মোট পয়েন্ট কমলেও পয়েন্টের শতকরা হারে কোনো প্রভাব পড়বে না।

অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলও নির্ধারিত ওভার রেটের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। তবে আইসিসির একটি বিশেষ নিয়মের কারণে নাজমুল হোসেন শান্তর দল বড় শাস্তি থেকে বেঁচে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের কোনো ইনিংস যদি ৮০ ওভারের আগেই গুটিয়ে দেওয়া যায় কিংবা ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১৬০ ওভারের কম বোলিং করতে হয়, তবে ওভার রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করায় এই নিয়মের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করায় স্বাগতিকদের ওভার রেটের বিষয়টি নিয়মের আওতায় পড়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডারউইনের অতিরিক্ত গরম, উইকেট পতনের সংখ্যা এবং অন্যান্য যৌক্তিক বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন ম্যাচ রেফারি।

ওভার রেটের কারণে পয়েন্ট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের জন্য ৪ পয়েন্ট হারিয়েছিল তারা, যা শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা থেকে তাদের ছিটকে দিয়েছিল।