লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। পুলিশ কমিশনার জানান, ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই মাদকসেবী শিক্ষক গণপতির বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলায় তারা তাকে, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে একে একে হত্যা করে। শনিবার ভোররাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানান, বাড়ির ভেতর পচন ধরা অবস্থায় চারটি লাশ পাওয়া গেছে। লাশের গলায় রশি, গামছা ও গেঞ্জি পেঁচানো ছিল। পুলিশের ধারণা, ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গণপতির বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানায়, গণপতি চক্রবর্তী ২৫ বছর আগে রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর ১২ বছর ধরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। তিনি ৫০ বছর বয়সী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন এবং তার বাড়ির ছাদে ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশীসহ স্থানীয়দের আনাগোনা ছিল।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না, তবে কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। এক সহকর্মী জানিয়েছেন, অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন এবং গত বৃহস্পতিবার তিনি অবসরের মোটা অংকের টাকা ব্যাংক থেকে তুলেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই এবং সিআইডি যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি হ্যাকারদের

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। পুলিশ কমিশনার জানান, ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই মাদকসেবী শিক্ষক গণপতির বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলায় তারা তাকে, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে একে একে হত্যা করে। শনিবার ভোররাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানান, বাড়ির ভেতর পচন ধরা অবস্থায় চারটি লাশ পাওয়া গেছে। লাশের গলায় রশি, গামছা ও গেঞ্জি পেঁচানো ছিল। পুলিশের ধারণা, ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গণপতির বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানায়, গণপতি চক্রবর্তী ২৫ বছর আগে রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসরের পর ১২ বছর ধরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। তিনি ৫০ বছর বয়সী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন এবং তার বাড়ির ছাদে ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশীসহ স্থানীয়দের আনাগোনা ছিল।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না, তবে কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। এক সহকর্মী জানিয়েছেন, অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন এবং গত বৃহস্পতিবার তিনি অবসরের মোটা অংকের টাকা ব্যাংক থেকে তুলেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই এবং সিআইডি যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।