লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ

চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী পিন্টু দাস তার পরিবারের চার সদস্যসহ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। বুধবার (২৬ আগস্ট) এই নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের আত্মীয় এবং চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

পিন্টু দাসের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা শোনা যাচ্ছে। উপমা দে জানান, পিন্টু দাস শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

ব্যবসায়িক সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসা করতেন। মদিনা মার্কেটের নিচতলায় এস কে শিল্পালয় নামে তার দোকান ছিল, যেখানে তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধকি স্বর্ণ ফেরত দিতে পারছিলেন না এবং ব্যবসার নামে বিভিন্ন সমিতি থেকে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরের দিন আসতে বলেন। পরবর্তীতে পিন্টু দাসের সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান রাসেল খান এবং তিনি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।

পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবং কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয় রয়েছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস জানান, পিন্টু দাস নিজে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে থানার ওসি ফয়েজ জানিয়েছেন, নিখোঁজের বিষয়টি এইমাত্র জানা গেছে এবং তদন্ত করে উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেন, মার্কেটটিতে প্রায় ৫/৬ মাস আগে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেন পিন্টু।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ বলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ এটা এই মাত্রই জানলাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে বিলের পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী পিন্টু দাস তার পরিবারের চার সদস্যসহ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। বুধবার (২৬ আগস্ট) এই নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিন্টু দাসের আত্মীয় এবং চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

পিন্টু দাসের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা শোনা যাচ্ছে। উপমা দে জানান, পিন্টু দাস শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

ব্যবসায়িক সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসা করতেন। মদিনা মার্কেটের নিচতলায় এস কে শিল্পালয় নামে তার দোকান ছিল, যেখানে তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধকি স্বর্ণ ফেরত দিতে পারছিলেন না এবং ব্যবসার নামে বিভিন্ন সমিতি থেকে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরের দিন আসতে বলেন। পরবর্তীতে পিন্টু দাসের সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান রাসেল খান এবং তিনি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।

পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবং কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয় রয়েছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস জানান, পিন্টু দাস নিজে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে থানার ওসি ফয়েজ জানিয়েছেন, নিখোঁজের বিষয়টি এইমাত্র জানা গেছে এবং তদন্ত করে উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেন, মার্কেটটিতে প্রায় ৫/৬ মাস আগে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেন পিন্টু।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ বলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ এটা এই মাত্রই জানলাম।