লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নক্ষত্র, আমাদের জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি হওয়া এই কবির ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। জীবনের শুরু থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাকে। তবে মাত্র ২৩ বছরের এক সংক্ষিপ্ত সৃষ্টিশীল জীবনেই তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের জগতে এক কালজয়ী অধ্যায় রচনা করে গেছেন। কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় ছিল তার অবাধ ও সফল বিচরণ।

কাজী নজরুল ইসলাম একাধারে ছিলেন কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি অসংখ্য বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীতকে এক অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার সৃষ্টিতে প্রেম, সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদের বাণী অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার রচিত কবিতা ও গান মুক্তিকামী মানুষের মনে প্রতিরোধের তীব্র চেতনা জাগিয়েছিল।

একদিকে তিনি যেমন ছিলেন বিদ্রোহের মূর্ত প্রতীক, অন্যদিকে প্রেমের ক্ষেত্রেও তার রূপটি ছিল প্রবাদপ্রতিম। তিনি ছিলেন যৌবনের দূত, যিনি প্রেম বিলিয়েছিলেন এবং প্রেম প্রত্যাশাও করেছিলেন। নিজের সেই প্রেমিক রূপের প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি অনায়াসেই লিখতে পেরেছিলেন, ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়’।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে লাভ করেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন রাকিব হাসান

আজ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নক্ষত্র, আমাদের জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি হওয়া এই কবির ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। জীবনের শুরু থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাকে। তবে মাত্র ২৩ বছরের এক সংক্ষিপ্ত সৃষ্টিশীল জীবনেই তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের জগতে এক কালজয়ী অধ্যায় রচনা করে গেছেন। কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় ছিল তার অবাধ ও সফল বিচরণ।

কাজী নজরুল ইসলাম একাধারে ছিলেন কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি অসংখ্য বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীতকে এক অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার সৃষ্টিতে প্রেম, সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদের বাণী অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার রচিত কবিতা ও গান মুক্তিকামী মানুষের মনে প্রতিরোধের তীব্র চেতনা জাগিয়েছিল।

একদিকে তিনি যেমন ছিলেন বিদ্রোহের মূর্ত প্রতীক, অন্যদিকে প্রেমের ক্ষেত্রেও তার রূপটি ছিল প্রবাদপ্রতিম। তিনি ছিলেন যৌবনের দূত, যিনি প্রেম বিলিয়েছিলেন এবং প্রেম প্রত্যাশাও করেছিলেন। নিজের সেই প্রেমিক রূপের প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি অনায়াসেই লিখতে পেরেছিলেন, ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়’।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে লাভ করেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।