লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনার চাটমোহরে প্রদীপের আলোয় জমজমাট পুঁথিপাঠের আসর

প্রযুক্তির জয়জয়কার আর আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘পুঁথিপাঠ’। প্রাচীন এই লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ও পুনরুজ্জীবিত করতে পাবনার চাটমোহরে বসেছিল এক ব্যতিক্রমী পুঁথিপাঠের আসর। কোনো কৃত্রিম বৈদ্যুতিক আলো ছাড়াই, কেবল কুপি বাতি, প্রদীপ ও হারিকেনের স্নিগ্ধ আলোয় মুখরিত হয়ে ওঠে এই আসর।

গত বৃহস্পতিবার রাতে চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে এবং চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এস এম আতিকুল আলমের নেতৃত্বে এই ব্যতিক্রমী আসর বসে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহ পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পুরো এলাকায় কৃত্রিম আলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। কেবল হারিকেন আর কুপির মৃদু আলোয় বাঁশের চাটাই ও পাটিতে বসে গ্রামের সব বয়সী মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো এই পুঁথিপাঠ উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সুর করে পুঁথি পাঠ করে শোনান স্থানীয় নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল ও মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক। আসাদুজ্জামান দুলাল ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’ এবং লইমুদ্দিন প্রামাণিক ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’ পুঁথি থেকে পাঠ পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় একদল তরুণ, যাদের মধ্যে ছিলেন সাজল বিশ্বাস, বিপ্লব আচার্য, নিয়ামুল মুক্তা ও শিক্ষক আবদুল মান্নান। আয়োজকদের আশা, চলনবিল অঞ্চলে লোকসংস্কৃতির এমন আয়োজন আগামীতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা চিকিৎসক আতিকুল আলম বলেন, একসময় দিনের ক্লান্তি শেষে গ্রামের মানুষ সুরের মূর্ছনায় পুঁথি শুনে বিনোদন পেতেন। কিন্তু স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও মুঠোফোনের যুগে এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতেই মূলত এই আয়োজন করা হয়েছে। উপস্থিত সবাই অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এই পুঁথিপাঠ উপভোগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

শৈশবের স্মৃতিচারণা করে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠক এস এম মিজানুর রহমান বলেন, আগেকার দিনে দাদা-নানাদের মুখে নিয়মিত পুঁথি শোনা যেত। তবে এখন আর তেমন পাঠক পাওয়া যায় না। ইতিহাসের গল্প ও আমাদের লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩০ সালে বিশ্বের ৩২তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ

পাবনার চাটমোহরে প্রদীপের আলোয় জমজমাট পুঁথিপাঠের আসর

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রযুক্তির জয়জয়কার আর আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘পুঁথিপাঠ’। প্রাচীন এই লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ও পুনরুজ্জীবিত করতে পাবনার চাটমোহরে বসেছিল এক ব্যতিক্রমী পুঁথিপাঠের আসর। কোনো কৃত্রিম বৈদ্যুতিক আলো ছাড়াই, কেবল কুপি বাতি, প্রদীপ ও হারিকেনের স্নিগ্ধ আলোয় মুখরিত হয়ে ওঠে এই আসর।

গত বৃহস্পতিবার রাতে চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে এবং চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এস এম আতিকুল আলমের নেতৃত্বে এই ব্যতিক্রমী আসর বসে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহ পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পুরো এলাকায় কৃত্রিম আলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। কেবল হারিকেন আর কুপির মৃদু আলোয় বাঁশের চাটাই ও পাটিতে বসে গ্রামের সব বয়সী মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো এই পুঁথিপাঠ উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সুর করে পুঁথি পাঠ করে শোনান স্থানীয় নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল ও মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক। আসাদুজ্জামান দুলাল ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’ এবং লইমুদ্দিন প্রামাণিক ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’ পুঁথি থেকে পাঠ পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় একদল তরুণ, যাদের মধ্যে ছিলেন সাজল বিশ্বাস, বিপ্লব আচার্য, নিয়ামুল মুক্তা ও শিক্ষক আবদুল মান্নান। আয়োজকদের আশা, চলনবিল অঞ্চলে লোকসংস্কৃতির এমন আয়োজন আগামীতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা চিকিৎসক আতিকুল আলম বলেন, একসময় দিনের ক্লান্তি শেষে গ্রামের মানুষ সুরের মূর্ছনায় পুঁথি শুনে বিনোদন পেতেন। কিন্তু স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও মুঠোফোনের যুগে এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতেই মূলত এই আয়োজন করা হয়েছে। উপস্থিত সবাই অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এই পুঁথিপাঠ উপভোগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

শৈশবের স্মৃতিচারণা করে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠক এস এম মিজানুর রহমান বলেন, আগেকার দিনে দাদা-নানাদের মুখে নিয়মিত পুঁথি শোনা যেত। তবে এখন আর তেমন পাঠক পাওয়া যায় না। ইতিহাসের গল্প ও আমাদের লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।