লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি সংবলিত ম্যুরালটি অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে সংস্কারকাজের সময় এটি সরানো হলেও কার নির্দেশে বা কার দায়িত্বে ম্যুরালটি অপসারিত হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বরে এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় চার নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছবি ছিল। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এই ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, জাতীয় চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং তাদের এই ম্যুরাল অপসারণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এই ম্যুরালটি স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। এখন শুনছি সরকারের নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে। তবে আমরা এ ধরনের কাজকে কোনোভাবেই সমর্থন করি না।"

এই ঘটনার দায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। মাধবপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ম্যুরালটি সরানোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না এবং এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন। অন্যদিকে, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে এই ম্যুরাল সরানো হয়নি। এমনকি সেখানে নতুন কোনো ম্যুরাল তৈরির ব্যাপারেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই।

এদিকে, জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে যে তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে কি না। একই সাথে তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে লালন ও সম্মান করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল নাসরকে জিতিয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৭৮

মাধবপুরে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি সংবলিত ম্যুরালটি অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে সংস্কারকাজের সময় এটি সরানো হলেও কার নির্দেশে বা কার দায়িত্বে ম্যুরালটি অপসারিত হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বরে এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় চার নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছবি ছিল। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এই ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, জাতীয় চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং তাদের এই ম্যুরাল অপসারণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এই ম্যুরালটি স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। এখন শুনছি সরকারের নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে। তবে আমরা এ ধরনের কাজকে কোনোভাবেই সমর্থন করি না।"

এই ঘটনার দায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। মাধবপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ম্যুরালটি সরানোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না এবং এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন। অন্যদিকে, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে এই ম্যুরাল সরানো হয়নি। এমনকি সেখানে নতুন কোনো ম্যুরাল তৈরির ব্যাপারেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই।

এদিকে, জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে যে তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে কি না। একই সাথে তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে লালন ও সম্মান করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।