লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা

ঢাকার এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা এখন সংশোধিত প্রস্তাবে বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে (পাতালপথ) এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে, সাভার থেকে শুরু হয়ে গাবতলী, মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত পাতাল ও উড়ালপথের সমন্বয়ে নির্মিত হবে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প দুটির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্তারিত নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তন। সংশোধিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যখন প্রথম প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তখন প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত নকশাই প্রস্তুত ছিল না। এছাড়া কর-ভ্যাট, ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সেবাদাতা সংস্থার ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, পরামর্শক ব্যয় এবং নির্মাণকালীন সুদ যুক্ত হওয়ায় মোট ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলারের বিনিময় হারের প্রভাবও এই প্রকল্পগুলোতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ সালে প্রতি ডলারের মূল্য ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ টাকায়। এর পাশাপাশি জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণের কঠিন শর্ত এবং দরপত্রে জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত প্রতিযোগিতার কারণেও নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। উল্লেখ্য, এই দুটি মেগা প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে জাইকা।

প্রকল্পভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১-এর মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টেন৯৪ কোটি টাকা। ৩১ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই পাতাল ও উড়াল রেলপথে মোট ২১টি স্টেশন থাকবে। ফলে এই লাইনে প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।

একইভাবে, ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৪টি স্টেশন বিশিষ্ট এই প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্যাক্টে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক দেখছেন আসিফ মাহমুদ

ঢাকার দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা এখন সংশোধিত প্রস্তাবে বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অধীনে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে (পাতালপথ) এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে, সাভার থেকে শুরু হয়ে গাবতলী, মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত পাতাল ও উড়ালপথের সমন্বয়ে নির্মিত হবে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প দুটির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্তারিত নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তন। সংশোধিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যখন প্রথম প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তখন প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত নকশাই প্রস্তুত ছিল না। এছাড়া কর-ভ্যাট, ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সেবাদাতা সংস্থার ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, পরামর্শক ব্যয় এবং নির্মাণকালীন সুদ যুক্ত হওয়ায় মোট ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলারের বিনিময় হারের প্রভাবও এই প্রকল্পগুলোতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ সালে প্রতি ডলারের মূল্য ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ টাকায়। এর পাশাপাশি জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণের কঠিন শর্ত এবং দরপত্রে জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত প্রতিযোগিতার কারণেও নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। উল্লেখ্য, এই দুটি মেগা প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে জাইকা।

প্রকল্পভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১-এর মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টেন৯৪ কোটি টাকা। ৩১ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই পাতাল ও উড়াল রেলপথে মোট ২১টি স্টেশন থাকবে। ফলে এই লাইনে প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।

একইভাবে, ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৪টি স্টেশন বিশিষ্ট এই প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।