লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে সাংবাদিক নির্যাতন ও প্রেসক্লাব উচ্ছেদ: স্বাধীন গণমাধ্যমের গভীর সংকট

বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি আজ এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা এবং প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান গণমাধ্যমের সেই ক্ষতটিকে আরও প্রকট করে তুলেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া ১৪ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা এই ক্লাবটি রাতের আঁধারে পার্ক সম্প্রসারণের নামে উচ্ছেদ করেন জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে। আবুল হোসেন আবার একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তাঁর এই দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয়ের কারণে সাধারণ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার চেয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে এই উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।

এই প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান, তখন তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা দিয়ে নির্যাতন করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রেসক্লাব চত্বরেই আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার সহযোগীরা ইসরাফিলের ওপর হামলা চালায়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি, নিউজ ২৪-এর বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ (বরকত মোল্লা)। হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন মানুষ দেখছে, সেখানে এমন মব-জাস্টিস ও গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, দলীয় পদধারী সাংবাদিক নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ওপর জুলুমে সায় দিয়েছেন।

সাংবাদিক নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয়েছে পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানির কৌশল। আক্রান্ত সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করে। অথচ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবং পরবর্তীতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের দায়ের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের মিথ্যা অভিযোগ পুলিশ দ্রুত গ্রহণ করে। এটি মূলত সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার এবং মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল।

সাংবাদিক নেতারা যখন political দলের পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের কোনো উদ্যোগ নেননি। এছাড়া ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসা গণমাধ্যম মালিক ও নীতিনির্ধারকদের কর্পোরেট অবহেলা মফস্বল সাংবাদিকদের আরও অসহায় করে তোলে। মফস্বলের প্রতিনিধিরা নামমাত্র বা বিনা বেতনে কাজ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, যা প্রতিষ্ঠানের ভিউ ও টিআরপি বাড়ালেও বিপদের দিনে তারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন পান না। শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, এই সংকটে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানকেও পাশে পাননি।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের এই একই ছক দেখা যায়। এই অন্ধকূপ থেকে মুক্ত হতে হলে সাংবাদিকতায় কিছু মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। প্রথমত, সাংবাদিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বিধান রাখতে হবে যে, সক্রিয় রাজনীতি বা দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ একটি স্বাধীন ‘সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন’ গঠন করতে হবে, যা হামলা ও হয়রানির ঘটনার তদন্ত করবে। চতুর্থত, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক পাল্টা মামলার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করতে হবে, যাতে তদন্ত ছাড়া তাৎক্ষণিক গ্রেফতার এড়ানো যায়। শরীয়তপুরের ইসরাফিল, বিধান মজুমদার, জাহিদ হাসান ও বরকত উল্লাহদের এই লড়াই আসলে মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার এক শেষ চেষ্টা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন

শরীয়তপুরে সাংবাদিক নির্যাতন ও প্রেসক্লাব উচ্ছেদ: স্বাধীন গণমাধ্যমের গভীর সংকট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি আজ এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা এবং প্রেসক্লাবের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান গণমাধ্যমের সেই ক্ষতটিকে আরও প্রকট করে তুলেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের সৎ সাংবাদিকরা আজ রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ও তিনটি দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া ১৪ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা এই ক্লাবটি রাতের আঁধারে পার্ক সম্প্রসারণের নামে উচ্ছেদ করেন জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেলা প্রশাসক দাবি করেন যে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে খোদ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতে। আবুল হোসেন আবার একই সাথে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তাঁর এই দ্বৈত ও সাংঘর্ষিক পরিচয়ের কারণে সাধারণ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার চেয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতি নিয়ে এই উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হয়, যা সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।

এই প্রশাসনিক অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান, তখন তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা দিয়ে নির্যাতন করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রেসক্লাব চত্বরেই আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ ও তার সহযোগীরা ইসরাফিলের ওপর হামলা চালায়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি, নিউজ ২৪-এর বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ (বরকত মোল্লা)। হামলার মূল অভিযুক্ত, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’ স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন মানুষ দেখছে, সেখানে এমন মব-জাস্টিস ও গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে আওয়ামী আমলেও দেখা গেছে, দলীয় পদধারী সাংবাদিক নেতারা ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ওপর জুলুমে সায় দিয়েছেন।

সাংবাদিক নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হয়েছে পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানির কৌশল। আক্রান্ত সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করে। অথচ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবং পরবর্তীতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের দায়ের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের মিথ্যা অভিযোগ পুলিশ দ্রুত গ্রহণ করে। এটি মূলত সাংবাদিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার এবং মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটভিত্তিক কৌশল।

সাংবাদিক নেতারা যখন political দলের পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিনও আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের কোনো উদ্যোগ নেননি। এছাড়া ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসা গণমাধ্যম মালিক ও নীতিনির্ধারকদের কর্পোরেট অবহেলা মফস্বল সাংবাদিকদের আরও অসহায় করে তোলে। মফস্বলের প্রতিনিধিরা নামমাত্র বা বিনা বেতনে কাজ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেন, যা প্রতিষ্ঠানের ভিউ ও টিআরপি বাড়ালেও বিপদের দিনে তারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন পান না। শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, এই সংকটে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানকেও পাশে পাননি।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক নির্যাতনের এই একই ছক দেখা যায়। এই অন্ধকূপ থেকে মুক্ত হতে হলে সাংবাদিকতায় কিছু মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। প্রথমত, সাংবাদিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বিধান রাখতে হবে যে, সক্রিয় রাজনীতি বা দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল গঠন করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ একটি স্বাধীন ‘সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন’ গঠন করতে হবে, যা হামলা ও হয়রানির ঘটনার তদন্ত করবে। চতুর্থত, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক পাল্টা মামলার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করতে হবে, যাতে তদন্ত ছাড়া তাৎক্ষণিক গ্রেফতার এড়ানো যায়। শরীয়তপুরের ইসরাফিল, বিধান মজুমদার, জাহিদ হাসান ও বরকত উল্লাহদের এই লড়াই আসলে মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার এক শেষ চেষ্টা।