লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির নেপথ্যে সংঘবদ্ধ চক্র, হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, গত বছর একই সময়ে সরকারের গুদামে ১২ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। তাই দেশে সার নেই—এই বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে সারের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন, যা চলতি অর্থবছরের একই মাসে কমে ১ হাজার ৮৪৭ টনে নেমেছে। বরাদ্দের এই পার্থক্যের বিস্তারিত তথ্য লিখিত আকারে দেওয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিমলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন করে ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসি ও বিএডিসির মাস্টার ডিলারের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও ডিলার রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে মাস্টার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।

অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। অবৈধভাবে সার মজুতের ঘটনায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ডিলারশিপ থাকবে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। সারের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের, জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্যের এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সাত সদস্যের এই কমিটিগুলোতে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদনের সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সার উত্তোলন ও বিতরণ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিলারদের রসিদ দিয়ে সার বিক্রি করতে হয়। সংসদ সদস্যরা সজাগ থাকলে দুষ্কৃতিকারীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল কর্মীকে হত্যা

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির নেপথ্যে সংঘবদ্ধ চক্র, হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, গত বছর একই সময়ে সরকারের গুদামে ১২ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। তাই দেশে সার নেই—এই বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে সারের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন, যা চলতি অর্থবছরের একই মাসে কমে ১ হাজার ৮৪৭ টনে নেমেছে। বরাদ্দের এই পার্থক্যের বিস্তারিত তথ্য লিখিত আকারে দেওয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিমলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন করে ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসি ও বিএডিসির মাস্টার ডিলারের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও ডিলার রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে মাস্টার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।

অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। অবৈধভাবে সার মজুতের ঘটনায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ডিলারশিপ থাকবে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। সারের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্যের, জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্যের এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সাত সদস্যের এই কমিটিগুলোতে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদনের সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সার উত্তোলন ও বিতরণ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিলারদের রসিদ দিয়ে সার বিক্রি করতে হয়। সংসদ সদস্যরা সজাগ থাকলে দুষ্কৃতিকারীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।