লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের জাতিগত অস্তিত্ব অস্বীকার করল মিয়ানমার

বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করেছে মিয়ানমার সরকার। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে এই ইতিবাচক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিষয়ে মিয়ানমার তাদের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে দেশটি স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগত পরিচয় মিয়ানমারে ঐতিহাসিকভাবে ছিল না এবং এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে প্রথম দফায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কতজন রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ২০১৭ সালের সামরিক দমন-পীড়নের পর পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন।

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের শঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে এই জনগোষ্ঠীর ওপর আবারও নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে যে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর, যার ফলে তারা এই জনগোষ্ঠীকে স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খালাস পেয়ে ৭ বছরের কন্যাসন্তানসহ মুক্তি পেলেন কামরুন নাহার মনি

রোহিঙ্গাদের জাতিগত অস্তিত্ব অস্বীকার করল মিয়ানমার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করেছে মিয়ানমার সরকার। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে এই ইতিবাচক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিষয়ে মিয়ানমার তাদের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে দেশটি স্পষ্টভাবে দাবি করেছে যে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো জাতিগত পরিচয় মিয়ানমারে ঐতিহাসিকভাবে ছিল না এবং এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে প্রথম দফায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কতজন রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ২০১৭ সালের সামরিক দমন-পীড়নের পর পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন।

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের শঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে এই জনগোষ্ঠীর ওপর আবারও নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে যে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর, যার ফলে তারা এই জনগোষ্ঠীকে স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে।