লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তলপেটে চিনচিনে ব্যথা ও প্রস্রাবে কষ্ট: পুরুষদের ক্রনিক প্রোস্টাটাইটিস

অফিসে একটানা দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করা অথবা দীর্ঘ সময় ধরে বাইক চালানোর কারণে অনেকেই তলপেটে বা প্রস্রাবের রাস্তা ও তার আশেপাশে তীব্র অস্বস্তি ও চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেন। প্রস্রাবের সময় কিংবা ঠিক পরপরই তলপেটের এই লুকানো কষ্টটি অনেকেই লজ্জায় বা সংকোচে কাউকে বলতে পারেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পুরুষদের অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু চরম অবহেলিত এই সমস্যাটিকে বলা হয় ‘ক্রনিক প্রোস্টাটাইটিস’ (Chronic Prostatitis) বা ‘ক্রনিক পেলভিক পেইন সিন্ড্রোম’ (CPPS)।

ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইউরোলজিস্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজকেরা সুলতানা চৌধুরী জানান, এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাযোগ্য একটি সমস্যা। এটিকে সাধারণ কোমর ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের এই সমস্যাটি সৃষ্টির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রোস্টেট গ্রন্থিতে দীর্ঘমেয়াদী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়া। এছাড়া একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা বা দীর্ঘ সময় বাইক চালানোর ফলে পেলভিক পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে শ্রোণীর (Pelvis) পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মূত্রনালীর পুরনো কোনো ইনফেকশন ঠিকমতো নিরাময় না হওয়াও এর জন্য দায়ী।

ক্রনিক প্রোস্টাটাইটিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—প্রস্রাব করার সময় বা ঠিক পরে লিঙ্গে বা তলপেটে চিনচিনে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হওয়া। এছাড়া অণ্ডকোষ, গুহ্যদ্বার বা কুঁচকির আশেপাশে এক ধরণের ভারী ভাব বা অস্বস্তি হওয়া, প্রস্রাবের বেগ এলেও তা পুরোপুরি ক্লিয়ার না হওয়া এবং বীর্যপাতের সময় বা পরে মৃদু থেকে তীব্র ব্যথা ও জ্বালা হওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় পিঠের নিচের অংশে বা কোমরে ব্যথা চেপে বসতে পারে। এই লক্ষণগুলো হুট করে বাড়ে, আবার কিছুদিন নিজে নিজেই কমে যায়।

এই কষ্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে সঠিক ইউরোলজিক্যাল পরামর্শ, পেলভিক ফ্লোর থেরাপি এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—একটানা দীর্ঘ সময় বসে না থাকা, কুসুম গরম পানির সেঁক নেওয়া বা সিটজ বাথ নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সেবন করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শের জন্য ডা. তাজকেরা সুলতানা চৌধুরীর সাথে সরাসরি ০১৯৮৯৯৯৭১৮০ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে, যেখানে রোগীর গোপনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকুর বিল পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৬ বিলিয়নের ঘরে

তলপেটে চিনচিনে ব্যথা ও প্রস্রাবে কষ্ট: পুরুষদের ক্রনিক প্রোস্টাটাইটিস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অফিসে একটানা দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করা অথবা দীর্ঘ সময় ধরে বাইক চালানোর কারণে অনেকেই তলপেটে বা প্রস্রাবের রাস্তা ও তার আশেপাশে তীব্র অস্বস্তি ও চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেন। প্রস্রাবের সময় কিংবা ঠিক পরপরই তলপেটের এই লুকানো কষ্টটি অনেকেই লজ্জায় বা সংকোচে কাউকে বলতে পারেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পুরুষদের অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু চরম অবহেলিত এই সমস্যাটিকে বলা হয় ‘ক্রনিক প্রোস্টাটাইটিস’ (Chronic Prostatitis) বা ‘ক্রনিক পেলভিক পেইন সিন্ড্রোম’ (CPPS)।

ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইউরোলজিস্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজকেরা সুলতানা চৌধুরী জানান, এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাযোগ্য একটি সমস্যা। এটিকে সাধারণ কোমর ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের এই সমস্যাটি সৃষ্টির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রোস্টেট গ্রন্থিতে দীর্ঘমেয়াদী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়া। এছাড়া একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা বা দীর্ঘ সময় বাইক চালানোর ফলে পেলভিক পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে শ্রোণীর (Pelvis) পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মূত্রনালীর পুরনো কোনো ইনফেকশন ঠিকমতো নিরাময় না হওয়াও এর জন্য দায়ী।

ক্রনিক প্রোস্টাটাইটিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—প্রস্রাব করার সময় বা ঠিক পরে লিঙ্গে বা তলপেটে চিনচিনে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হওয়া। এছাড়া অণ্ডকোষ, গুহ্যদ্বার বা কুঁচকির আশেপাশে এক ধরণের ভারী ভাব বা অস্বস্তি হওয়া, প্রস্রাবের বেগ এলেও তা পুরোপুরি ক্লিয়ার না হওয়া এবং বীর্যপাতের সময় বা পরে মৃদু থেকে তীব্র ব্যথা ও জ্বালা হওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় পিঠের নিচের অংশে বা কোমরে ব্যথা চেপে বসতে পারে। এই লক্ষণগুলো হুট করে বাড়ে, আবার কিছুদিন নিজে নিজেই কমে যায়।

এই কষ্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে সঠিক ইউরোলজিক্যাল পরামর্শ, পেলভিক ফ্লোর থেরাপি এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—একটানা দীর্ঘ সময় বসে না থাকা, কুসুম গরম পানির সেঁক নেওয়া বা সিটজ বাথ নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সেবন করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শের জন্য ডা. তাজকেরা সুলতানা চৌধুরীর সাথে সরাসরি ০১৯৮৯৯৯৭১৮০ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে, যেখানে রোগীর গোপনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।