লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এই সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার পর মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া স্বীকার করেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হতে কিছুটা সময় লাগছে। সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নিজের অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার জন্য বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান, যার জবাবে সাসাকাওয়া বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া, সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। সাসাকাওয়াও গত ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ খুন: বাকি স্বর্ণ উদ্ধার নিয়ে ধোঁয়াশা, বদলাল হত্যার উদ্দেশ্য

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এই সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার পর মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া স্বীকার করেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হতে কিছুটা সময় লাগছে। সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নিজের অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার জন্য বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান, যার জবাবে সাসাকাওয়া বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া, সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। সাসাকাওয়াও গত ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।