লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকায়। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রোববার অনুষ্ঠিত এই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত এবং ২০২৬ সালে তা কত ছিল। একই সঙ্গে ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও জানতে চান তিনি। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানো এবং কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় বা কম অগ্রাধিকারযুক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের চাহিদা কমানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি ঋণের সুদজনিত ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক এবং সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং অনুসরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হারকে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সামগ্রিক সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি করতে সাহায্য করবে।

অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে সরকার ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ (Annual Borrowing Plan) প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া নগদ টাকার প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনা করে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ (Cash Forecasting)-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ (PMBM Act)-এর বিধান অনুসরণের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা চলছে। এসব সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে নেইমার

দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকায়। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রোববার অনুষ্ঠিত এই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত এবং ২০২৬ সালে তা কত ছিল। একই সঙ্গে ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও জানতে চান তিনি। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানো এবং কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় বা কম অগ্রাধিকারযুক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের চাহিদা কমানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি ঋণের সুদজনিত ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক এবং সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং অনুসরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হারকে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সামগ্রিক সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি করতে সাহায্য করবে।

অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে সরকার ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ (Annual Borrowing Plan) প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া নগদ টাকার প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনা করে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ (Cash Forecasting)-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’ (PMBM Act)-এর বিধান অনুসরণের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা চলছে। এসব সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।